নিউজ ডেস্ক || এই বছরের পরিসংখ্যান দিবসের মূল থিম হলো – ‘৭৫ বছর পূর্তি- জাতীয় নমুনা জরিপ’। এই থিমের মাধ্যমে দেশে তথ্য সংগ্রহ ও নীতিগত পরিকল্পনায় জাতীয় নমুনা জরিপের অবদানকে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
ত্রিপুরার পরিসংখ্যান মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেছেন, পরিসংখ্যান আমাদের উন্নয়নের মানচিত্র তৈরি করার অন্যতম উপাদান। তিনি প্রজ্ঞাভবনের ৩নং হলে আয়োজিত “পরিসংখ্যান দিবস-২০২৫” উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এই কথা বলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মচারীদের কঠোর পরিশ্রমের ফলে ত্রিপুরার বাস্তব তথ্য পাওয়া যায়, যার ওপর ভিত্তি করে জনগণের উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হয়। দিল্লির পরিসংখ্যান বিষয়ক বৈঠকে এই দপ্তরের সাফল্য অন্যান্য রাজ্যগুলির কাছেও প্রশংসিত হয়েছে এবং তারা ত্রিপুরায় এসে এই কর্মপ্রচেষ্টা দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যা গর্বের বিষয়। মন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন যে, সত্য তথ্য রাজ্যের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য পরিষেবা, আর্থ-সামাজিক মানদণ্ডের নির্দেশ দেয়। পরিশেষে তিনি ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচিতে প্রতিটি অফিস ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে গাছ লাগানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
এই অনুষ্ঠানে আধুনিক ভারতের পরিসংখ্যানের পথপ্রদর্শক এবং ভারতের পরিসংখ্যানের জনক অধ্যাপক প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবিশের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। তিনি ছিলেন একজন পরিসংখ্যানবিদ, বিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ ও গবেষক, যিনি ভারতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে ভারতকে সুসংহত পরিকল্পনার পথ দেখিয়েছেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা প্রয়াত অধ্যাপক মহলানবিশের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে ৭টি নতুন প্রকাশনার সূচনা করা হয় এবং ‘ইকোনোম্যাট্রিক্স অব চেইঞ্জ’ বইটি ডিজিট্যালি উদ্বোধন করা হয়। অতিথিরা আনুষ্ঠানিকভাবে যে ৭টি প্রকাশনার উন্মোচন করেন সেগুলি হলো: কফি টেবিল বুক, জেলা অভ্যন্তরীণ উৎপাদন প্রতিবেদন, ত্রিপুরার আমদানি রপ্তানি পরিসংখ্যান, পরিবেশ সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সংকল্প-ত্রিপুরা, নগর স্থানীয় সংস্থার হিসাব-ত্রিপুরা, মাংস ও মাংসজাত পণ্যের হারের উপর সমীক্ষা-ত্রিপুরা এবং কিউ-২।
অর্থনীতি ও পরিসংখ্যান দপ্তরের সচিব অভিষেক চন্দ্র নতুন ৭টি প্রকাশনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং জানান যে আগামী জুলাই মাস থেকে পর্যটন ক্ষেত্রে সার্ভের কাজ শুরু করা হবে।
অর্থনীতি ও পরিসংখ্যান দপ্তরের অধিকর্তা দেবানন্দ রিয়াং স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অর্থনীতি ও পরিসংখ্যান দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা চিরঞ্জীব ঘোষ প্রয়াত অধ্যাপক প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবিশের জীবন ও কর্মধারা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। কেন্দ্রীয় গৃহ মন্ত্রণালয়ের (সেন্সাস অপারেশনস) যুগ্ম অধিকর্তা প্রসেনজিৎ নাথ চৌধুরীও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অর্থনীতি ও পরিসংখ্যান দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা পল এস ডার্লং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।


