নিউজ ডেস্ক || ওড়িষ্যার মালকানগিরি জেলার এমভি-২৬ গ্রামে আদিবাসী সম্প্রদায়ের একটি দল বাঙালি বসতিবাসীদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনার পিছনে রয়েছে এক আদিবাসী মহিলার খুনের অভিযোগ, যা দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে, কিন্তু সংঘর্ষ থামাতে ইন্টারনেট সাসপেন্ড করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ৪ ডিসেম্বর, যখন রাখেলগুড়া গ্রামের ৫১ বছর বয়সী আদিবাসী মহিলা লেক পাদিয়ামির শিরশ্ছেদ লাশ পোটেরু নদীতে পাওয়া যায়। তিনি ১ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পুলিশের ধারণা, জমি বিবাদের জেরে এই খুন। ৭ ডিসেম্বর বিকেলে প্রায় ৫,০০০ আদিবাসী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এমভি-২৬-এ হামলা চালায়, বাড়িঘর পোড়ায় এবং লুটপাট করে। সূত্র অনুসারে, ৪ থেকে ১৫০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং প্রায় ১,০০০ বাসিন্দা গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে।
আমরা বাঙালি সংগঠনের সচিব গৌরাঙ্গ রুদ্র পাল বলেন, “আদিবাসীদের দল অতর্কিতে হামলা চালিয়েছে, বাড়িঘর পুড়িয়েছে এবং পুলিশ নীরব ছিল। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এমন হামলা বেড়েছে।” অন্যদিকে, আদিবাসী নেতারা অভিযোগ করেছেন যে বাঙালিরা অবৈধভাবে জমি দখল করেছে। বিধানসভায় কংগ্রেস বিধায়ক মঙ্গু খিল্লা বাঙালিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ। পুলিশ সুপার ভিনোদ পাতিল বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, শান্তি কমিটির বৈঠক হয়েছে।”
ঐতিহাসিকভাবে, ১৯৬০-এর দশকে বাংলাদেশ থেকে আসা বাঙালি পরিবারগুলোকে সরকার এখানে পুনর্বাসিত করেছে, কিন্তু জমি ও সম্পদ নিয়ে আদিবাসীদের সঙ্গে বিবাদ চলছে। এই সংঘর্ষে কোনও মৃত্যু না হলেও, অর্থনৈতিক ক্ষতি ব্যাপক।সরকার শান্তি ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করেছে এবং কিছু বাসিন্দা ফিরে এসেছে। তবে এই ঘটনা দেশজুড়ে ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুকে উসকে তুলেছে, যা সাংবিধানিক অধিকার এবং সম্প্রদায়গত সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।


