সন্তোষ পাল || আমাদের জীবনে ভালোবাসা ও আন্তরিকতার প্রকাশের অনেক মাধ্যম আছে, তার মধ্যে “ক্যাডল” বা জড়িয়ে ধরা এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এটি কেবল ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
ক্যাডল কী? ক্যাডল বা আলিঙ্গন হলো এমন একটি শারীরিক যোগাযোগ, যেখানে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি একে অপরকে জড়িয়ে ধরে উষ্ণতা ও আরামের অনুভূতি প্রদান করে। এটি মা-বাবা ও সন্তানের মধ্যে, প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে বা বন্ধুদের মাঝেও হতে পারে।
ক্যাডল করলে শরীরে অক্সিটোসিন নামক “ভালোবাসার হরমোন” নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। আলিঙ্গন আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং একাকীত্ব দূর করতে সাহায্য করে, ডিপ্রেশন হ্রাস করে। সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করে, এটি মানুষের মধ্যে বিশ্বাস ও নিরাপত্তার অনুভূতি সৃষ্টি করে, যা সম্পর্ককে আরও গভীর করে।
ক্যাডল করলে শরীরে এন্ডোরফিন ও অক্সিটোসিনের নিঃসরণ ঘটে, যা রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত কডলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, ফলে বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়। এক কথায় ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে। হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো, গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আলিঙ্গন হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিদিন অন্তত ২০ সেকেন্ডের একটি আন্তরিক ক্যাডল মানসিক শান্তি ও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। ক্যাডল শুধুমাত্র ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের শরীর ও মনের জন্য একপ্রকার ওষুধের মতো কাজ করে। তাই পরিবার, বন্ধু বা প্রিয়জনের সঙ্গে আলিঙ্গন ভাগ করে নেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী হতে পারে।
আধুনিক জীবনের ব্যস্ততার কারণে অনেক মানুষ একাকীত্ব অনুভব করেন। ক্যাডলিস থেরাপি তাদের জন্য একটি সমাধান, যেখানে তারা নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবেশে কারও সান্নিধ্য উপভোগ করতে পারেন।
শারীরিক স্পর্শ, বিশেষ করে আলিঙ্গন, শরীরে অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসরণ করে, যা মানসিক চাপ কমায় এবং সুখের অনুভূতি বাড়ায়। ক্যাডল কোনো রোমান্টিক বা শারীরিক সম্পর্কের বিকল্প নয়, বরং এটি সম্পূর্ণরূপে প্লেটোনিক (বন্ধুত্বপূর্ণ) এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা পরিষেবা।
ক্যাডলিস থেরাপি পরিষেবা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও জাপানের মতো দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়। ধীরে ধীরে এটি অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ছে, যেখানে মানুষ তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এই পরিষেবার দিকে ঝুঁকছে।
বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ক্যাডলিস পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার মাধ্যমে বুকিং করা যায়। ক্লায়েন্ট এবং ক্যাডল সঙ্গীর মধ্যে সব শর্ত ও সীমারেখা আগেই নির্ধারিত হয়, যাতে উভয়ের জন্য অভিজ্ঞতাটি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হয়। এটি সম্পূর্ণ পেশাদার পরিষেবা, যেখানে পারস্পরিক সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
কাডলিস থেরাপি শুধুমাত্র একাকীত্ব বা মানসিক চাপ কমানোর জন্য নয়, এটি মানুষের আবেগীয় স্বাস্থ্য উন্নত করার একটি নতুন উপায়। এটি নিরাপদ, পেশাদার এবং সম্পূর্ণ প্লেটোনিক পরিষেবা, যা মানুষকে উষ্ণতা ও প্রশান্তির অনুভূতি দিতে সাহায্য করে। বর্তমান যুগে মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিয়ে, এমন পরিষেবাগুলো সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।