চন্দন লাল রায়, গন্ডাছড়া || ধলাই জেলার গন্ডাছড়া মহকুমায় বছরের শেষ মাস চৈত্রের শুরুতেই আবারো শুরু হয়েছে পথ অবরোধের রাজনীতি। গত বছরের মতো এবারও এই গুরুত্বপূর্ণ মাসে মহকুমা সদর বাজারের সাপ্তাহিক হাটবারে পরিকল্পিত পথ অবরোধের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে স্থানীয় জাতি-জনজাতি সম্প্রদায়ের বৃহৎ অংশ। চৈত্র মাস, যা কৃষক, জুমিয়া, ক্রেতা-বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের কাছে অর্থনৈতিক লেনদেন ও কেনাকাটার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেই মাসেই এই অবরোধ তাদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার, গন্ডাছড়া মহকুমা সদরের সাপ্তাহিক হাটবারের দিন, ভোর ৫টা থেকে গন্ডাছড়া-পঞ্চরতন সড়কে তিনটি স্থানে পৃথক পৃথকভাবে পথ অবরোধ শুরু করেন রইস্যাবাড়ী ব্লকের ঠাকুরছড়া এডিসি ভিলেজের রেগা শ্রমিকরা। তাদের দাবি, গত তিন মাস ধরে রেগার কাজ করলেও বকেয়া মুজুরী এখনো মেটানো হয়নি। বারবার রইস্যাবাড়ী ব্লক ও এডিসি ভিলেজ অফিসে গিয়েও কোনো সমাধান না পেয়ে বাধ্য হয়ে তারা এই পথে নেমেছেন। অবরোধের ফলে ছোট-বড় গাড়ি, জুমিয়া, কৃষক এবং ক্রেতা-বিক্রেতারা রাস্তায় আটকে পড়েন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অবরোধকারী রেগা শ্রমিকদের অভিযোগ, “তিন মাস কাজ করেও আমরা মুজুরী পাইনি। বারবার অফিসে গিয়েও কোনো ফল হয়নি।” তারা জানিয়েছেন, আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে বকেয়া মুজুরী না মিটলে আরো বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন তারা। এদিকে, গত বছরও চৈত্র মাসে একইভাবে বিভিন্ন দাবিতে পথ অবরোধের ঘটনা ঘটেছিল, যা এবারও পুনরাবৃত্তি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
এই অবরোধের ফলে কৃষক ও জুমিয়ারা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে পৌঁছে দিতে না পারায় এবং ব্যবসায়ীরা কেনাবেচায় বাধার সম্মুখীন হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। স্থানীয়রা এই পরিকল্পিত অবরোধকে “রাজনৈতিক চক্রান্ত” হিসেবে দেখছেন এবং দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।