নিউজ ডেস্ক || ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে ত্রিপুরার রাজনৈতিক দলগুলি পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করেছে, যা রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং আগামী লড়াইয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। বিজেপি, সিপিআই(এম) এবং কংগ্রেসের বক্তব্য ও কর্মসূচিতে সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশিত হলেও, প্রত্যেকের আদর্শগত অবস্থান ভিন্নতর।
ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপির কর্মসূচিতে সংবিধান প্রণেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি মূল জোর ছিল ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ এবং উন্নয়নের রাজনীতির উপর। প্রদেশ সভাপতি রাজিব ভট্টাচার্য বলেন, “সংবিধানের মূল লক্ষ্য সামাজিক ন্যায় ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, আর সেই পথেই বর্তমান সরকার কাজ করছে।” এতে করে দলটি শাসনক্ষমতার সাফল্যকে সংবিধানের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
অন্যদিকে, সিপিআই(এম) দিনটিকে সরকারবিরোধী অবস্থানের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করেছে। তাদের কর্মসূচিতে সংবিধান, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র এবং মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন উঠে এসেছে। বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সংবিধানের মূল্যবোধের জন্য চ্যালেঞ্জ।” কংগ্রেসও ঐতিহ্য, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে। প্রদেশ সভাপতি আশীষ কুমার সাহা বলেন, “প্রজাতন্ত্র দিবসে ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে।”
এই ভিন্ন বার্তাগুলি ত্রিপুরার রাজনৈতিক বিতর্কের দিশা নির্ধারণ করবে। আগামী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এটি দলগুলির মধ্যে লড়াইকে আরও তীব্র করতে পারে, যা রাজ্যের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করবে।


