বিশালগড়ে রাস্তা নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ, দুই মাসেই ভেঙে পড়ছে ত্রিপল ইঞ্জিনের স্বপ্ন
নিউজ ডেস্ক || ত্রিপুরার বিশালগড় বিধানসভা কেন্দ্রের লক্ষ্মীবিল গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন পূর্ব লক্ষ্মীবিল এলাকায় রাস্তা নির্মাণে চরম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মাত্র দুই মাস আগে নির্মিত বাইপাস সংলগ্ন লকডাউন বাজার থেকে পূর্ব লক্ষ্মীবিল হাইয়ার সেকেন্ডারি স্কুল পর্যন্ত রাস্তাটি এখন খণ্ডবিখণ্ড। রাস্তার ধারে ও মাঝখানে চামড়া উঠে যাওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টি হলেই জল জমছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
২০২৩ সালে বিশালগড়ে নতুন দলের বিধায়কের আগমনে স্থানীয়রা উন্নয়নের আশা দেখেছিলেন। কিন্তু তাদের সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছে এই রাস্তা নির্মাণের নামে চলা কথিত দুর্নীতি। পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের (পিডব্লিউডি) আওতায় নির্মিত এই রাস্তার কাজের দায়িত্ব পেয়েছিলেন বিশালগড় মণ্ডলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক বাবুল দেবনাথ। তার সঙ্গে ছিলেন বিন্দু সাহা, প্রীতম সাহা সহ আরও কয়েকজন।
জানা গেছে, এই রাস্তা নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল লক্ষ্মীবিলে এলেমকো নামক একটি বেসরকারি কোম্পানির শাখা স্থাপনের জন্য কাঁচামাল সরবরাহের সুবিধা দেওয়া। কিন্তু ছয় মাস ধরে নানা তালবাহানার পর নির্মিত এই রাস্তা মাত্র দুই মাসেই বেহাল দশায় পৌঁছেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও আর্থিক দুর্নীতির কারণেই এই অবস্থা।
পঞ্চায়েতের সঙ্গে কথা বলতে গেলে প্রধান ও উপপ্রধান দাবি করেছেন, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। স্থানীয়রা এই দুরবস্থা চোখে দেখলেও ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না। অনেকের মধ্যে গুঞ্জন, এই প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। তবে প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না।
স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এটা ত্রিপল ইঞ্জিনের উন্নয়নের নামে প্রতারণা। আমরা ভেবেছিলাম নতুন বিধায়ক এসে এলাকার উন্নতি হবে, কিন্তু এখন আমরা লজ্জিত।”
প্রশ্ন উঠছে, কোথায় বিধায়ক? কোথায় ত্রিপল ইঞ্জিনের প্রতিশ্রুত উন্নয়ন? স্থানীয়রা এখন এই দুর্নীতির তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন। তবে এই ঘটনা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
বিশালগড়ের এই ঘটনা উন্নয়নের নামে দুর্নীতির এক চরম নজির। সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।


