নিউজ ডেস্ক || ভারতের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে কার্যকর হয়েছে তিনটি নতুন আইন—ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) ২০২৩, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস) ২০২৩ এবং ভারতীয় সাক্ষ্য অধিকার (বিএসএ) ২০২৩। এই আইনগুলি উপনিবেশিক আমলের পুরনো কাঠামো ভেঙে নাগরিক-বান্ধব বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমনে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। বুধবার হাঁপানিয়ার ইন্ডোর এক্সিবিশন হলে এই নতুন আইন নিয়ে একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, “শুধুমাত্র আইন পাশ করলেই চলবে না, তার যথাযথ কার্যকরণ এবং কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রক্রিয়ায় সাক্ষীদের নিরাপত্তা ছিল একটি দুর্বল দিক। নতুন আইনে এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়াও, ক্ষুদ্র অপরাধের ক্ষেত্রে জেল শাস্তির পরিবর্তে সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও মানবিক করবে। তদন্ত থেকে বিচার পর্যন্ত প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও সুশৃঙ্খল করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে এই আইনে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ডি-রেগুলেশনের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা দেশে প্রথম স্থানে রয়েছে। ইংরেজ আমলের অনেক পুরনো আইন বাতিল করে আধুনিকীকরণের পথে এগিয়েছে রাজ্য। তবে, তিনি সতর্ক করে বলেন, “নতুন ফৌজদারি আইনের লক্ষ্য মহৎ হলেও, এর বাস্তব প্রয়োগই আসল চ্যালেঞ্জ।” এই লক্ষ্যে আদালত ও পুলিশ প্রশাসনে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, আইনের নতুন ধারাগুলি কার্যকর করতে সমন্বয় এবং সাধারণ মানুষ ও আইনজীবীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে এই প্রদর্শনী বুধবার থেকে শুরু হয়ে চলবে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।


