নিউজ ডেস্ক || ত্রিপুরাকে এইচআইভি মুক্ত রাজ্য হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে আগরতলার প্রজ্ঞাভবনে ত্রিপুরা রাজ্য এইডস কন্ট্রোল সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত রাজ্যভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রমে তিনি এ কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৬,০০০ ছাত্রছাত্রী এইচআইভি/এইডসের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নেন, যা মুখ্যমন্ত্রী “ঐতিহাসিক” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যের মধ্যে ত্রিপুরা এইচআইভি সংক্রমণের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, “ড্রাগসের আসক্তি থেকে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবে। ছাত্রছাত্রীদেরও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে খারাপ সঙ্গ থেকে দূরে থাকতে হবে।” তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র নেশামুক্ত ভারতের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে ত্রিপুরা সরকার ড্রাগসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী স্কুল-কলেজে রেড রিবন ক্লাবের কার্যক্রম বৃদ্ধির ওপর জোর দেন এবং নিরাপদ যৌন আচরণ ও এইচআইভি প্রতিরোধে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি জানান, ত্রিপুরায় ১,১৮৭টি স্কুলে ২,৩১,০০০ ছাত্রছাত্রীকে সচেতন করার কাজ চলছে। এছাড়া, ৩,৪৩৩ জন এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিকে মাসিক ২,০০০ টাকা ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজে এইচআইভি আক্রান্ত মা ও শিশুদের জন্য বিশেষ কেন্দ্রও রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব রাভেল হেমেন্দ্র কুমার, ত্রিপুরা এইডস কন্ট্রোল সোসাইটির প্রকল্প অধিকর্তা ডাঃ বিনীতা চাকমা সহ অন্যান্য আধিকারিক ও চিকিৎসকগণ। মুখ্যমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ত্রিপুরাকে এইচআইভি মুক্ত রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।


