নিউজ ডেস্ক || বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের ভারতবিরোধী বক্তব্যগুলি দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতকে কেন্দ্র করে উসকানিমূলক মন্তব্যগুলি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, যা শুক্রবার আগরতলায় প্রতিবাদের রূপ নিয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ভারত সর্বদা সংবেদনশীল প্রসঙ্গ। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা সম্পর্কের ভিত্তি হলেও, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতবিরোধী বক্তব্য জনসমর্থন আদায়ের কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বর্তমান ইউনুস সরকারের সময়ে এই প্রবণতা আরও তীব্র হয়েছে, যা বিশ্লেষকরা অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ঢাকার চেষ্টা বলে মনে করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব মন্তব্য ভারতের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উসকানি দিচ্ছে।
শুক্রবার আগরতলায় বাংলাদেশের হাইকমিশনের সামনে তিপ্রা মথা পার্টির যুব শাখা ইয়ুথ টিপ্রা ফেডারেশন (YTF) প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, এটি দলীয় স্বার্থ নয়, বরং জাতীয় অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার প্রতিফলন। YTF হুঁশিয়ারি দিয়েছে, বাংলাদেশে এ ধরনের কর্মসূচি চলতে থাকলে ভারত কক্সবাজার বা চট্টগ্রাম নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে পারে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই শত্রুতাপূর্ণ ভাষা উগ্রপন্থী শক্তিকে উৎসাহিত করতে পারে। কূটনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও নিরাপত্তায় দুই দেশের নির্ভরতা বিবেচনায় এসব মন্তব্য অপ্রয়োজনীয় জটিলতা সৃষ্টি করছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে উভয় দেশের নেতৃত্বের কাছে সংযমী বক্তব্য প্রত্যাশিত। দীর্ঘমেয়াদে এটি দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে, তাই সংলাপ ও পারস্পরিক সম্মানের পথই টেকসই সমাধান বলে মনে করা হচ্ছে।


