নিউজ ডেস্ক || ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাঁটাতারের ঠিক ওপারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্থাপিত উচ্চক্ষমতার এলইডি লাইটের কারণে ত্রিপুরার সীমান্তবর্তী কৃষকরা ভয়াবহ ফসলহানির শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে কাঁঠালিয়া ব্লকে শত শত বর্গাচাষী এখন হতাশায় ডুবে আছেন।
গত এক বছরে উত্তর পাহাড়পুর থেকে দক্ষিণ ভবানীপুর পর্যন্ত সীমান্তলাগোয়া এলাকায় ৩০ ফুট উঁচু খুঁটিতে লাগানো এলইডি লাইটগুলো সারা রাত জ্বলছে। এর তীব্র আলোয় ধানগাছ শুকিয়ে ছাইয়ের মতো হয়ে গেছে, ফলন প্রায় শূন্য। আগে কম ক্ষমতার লাইট থাকলেও এমন ক্ষতি হতো না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। এছাড়া ভারতের দিকে কাঁটাতার থেকে মাত্র ৫ মিটার দূরে নতুন করে মাটি ফেলে বেড়া দেওয়ায় কাজ করতে গিয়ে কৃষক-শ্রমিকরা বারবার আহত হচ্ছেন, রক্তাক্ত হচ্ছেন।
নির্ভয়পুরের কৃষক রহিম মিয়া, শৈলেন সরকার, হারাধন দে, নারায়ণ মজুমদাররা সাংবাদিকদের বলেন, “অনেক টাকা খরচ করেছি, শরীরের ঘাম ঝরিয়েছি, কিন্তু এই আলোর জন্য ফসলই উঠল না। আমাদের ক্ষতিপূরণ কে দেবে?” বিএসএফ-এর কাছে গেলে তারা বলেছেন, এটা তাদের হাতে নেই। ব্লক পঞ্চায়েত ও বিধায়কের কাছেও গেছেন কৃষকরা, কিন্তু শুধু আশ্বাস ছাড়া কিছু মেলেনি।
এভাবে চললে সীমান্তের এপারের জমি পুরোপুরি পতিত হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কৃষকরা। তারা ত্রিপুরা সরকার ও কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন—দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও সমাধানের ব্যবস্থা করা হোক। নইলে সীমান্ত সুরক্ষার নামে কৃষকদের জীবিকাই বিপন্ন হয়ে পড়বে।


