আগরতলা || মহিলাদের অধিকার সুরক্ষায় রাজ্য সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এক্ষেত্রে মহিলাদের স্ব-নির্ভর করে তুললে তাদের আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়বে তেমনি তাদের উপর নানা রকম নির্যাতনের মাত্রাও হ্রাস পাবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বলিষ্ঠ নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার মহিলাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও স্ব-শক্তিকরণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। রাজ্য সরকারও সেই দিশায় কাজ করছে। আজ আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত রাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদ্যাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা একথা বলেন। অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু কল্যাণে সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের সাফলা সম্বলিত একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নারী সংক্রান্ত অপরাধ মোকাবিলায় সরকার সবসময় সচেষ্ট রয়েছে। এনসিআরবি-র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী শারীরিক আক্রমণ এবং নারী সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে ত্রিপুরা সর্বনিম্ন দিক থেকে ৮ম স্থানে রয়েছে। মহিলাদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে এবং তাদের তাৎক্ষণিক সাহায্যের জন্য রাজ্যে টোল ফ্রি ‘উইমেন হেল্পলাইন’ ১৮১ চালু করা হয়েছে। মা ও শিশুদের কথা মাথায় রেখে জিবি হাসপাতালে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার মহিলাদের আর্থিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ত্রিপুরা গ্রামীণ আজীবিকা মিশন (TRLM) প্রকল্পে রাজ্যে ৫৩ হাজার ৬২৩টি স্বসহায়ক দল গঠন করেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে রাজ্যের স্ব-সহায়ক দলগুলিকে শুধুমাত্র ৩২ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছিল। সেখানে ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ৭১৪ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
ব্যাঙ্ক লোনের ক্ষেত্রে ২০১৭-১৮-এর আগে দেওয়া হয়েছে ৪ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা এবং ২০১৮ থেকে এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে ১৪৬৫ কোটি ৮১ লক্ষ টাকা। বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টার ফলেই স্ব-সহায়ক দলের জনজাতি মায়েদের তৈরি রিসা এবং মাতাবাড়ির সুপ্রসিদ্ধ পেঁড়া প্রসাদ জিআই ট্যাগ লাভ করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যে ৪১৪ শতাংশেরও বেশি মহিলা স্টার্টআপ প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবসার সাথে যুক্ত রয়েছেন। রাজ্যের ছাত্রীদের গুণগত শিক্ষা প্রদানে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করছে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে পাঠরত ছাত্রীদের ভর্তি ফিস, কলেজ উন্নয়ন ফিস এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত ফি মকুব করা হয়েছে। নবম শ্রেণিতে পাঠরত প্রায় ১ লক্ষ ২২ হাজার ৫০৯ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে সাইকেল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও জাতীয় স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা লাভ করার ক্ষেত্রে ছাত্রীদের জন্য মাত্র ৩ শতাংশ সুদের হারে ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষামন্ত্রী টিংকু রায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদ্যাপন উপলক্ষ্যে এক পক্ষকাল ধরে রাজ্যব্যাপী বিভিন্ন দপ্তরের উদ্যোগে গৃহীত কর্মসূচিগুলি তুলে ধরেন। এছাড়াও মহিলা ও শিশু কল্যাণে দপ্তরের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
রাজ্যভিত্তিক অনুষ্ঠানে নিজ নিজ কাজে উৎকর্ষতার জন্য সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে ২১ জন মহিলা ও ৩টি স্ব-সহায়ক দলকে পুরস্কৃত করা হয়। এরমধ্যে ৩ জন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে এবং ৩ জন অঙ্গনওয়াড়ি হেলপারের হাতে শংসাপত্র, স্মারক উপহার এবং চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। ৩ জন সিডিপিও ও ৩ জন আইসিডিএস সুপারভাইজারকেও পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কার স্বরূপ তাদের হাতে শংসাপত্র এবং স্মারক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। ২ জন মহিলা পুলিশ কনস্টেবল এবং এক জন মহিলা এসপিও-র হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের সচিব তাপস রায়। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন, ত্রিপুরা মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন ঝর্ণা দেববর্মা। অনুষ্ঠান মঞ্চে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন জয়ন্তী দেববর্মা, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা তপন কুমার দাস, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা ডা. বিশাল কুমার, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপার ড. কিরণ কুমার কে।