নিউজ ডেস্ক || ত্রিপুরার হেজামারায় শারদোৎসব উপলক্ষে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে বিজেপি কর্মী ও সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডাঃ) মানিক সাহা। এই ঘটনায় জড়িতদের কাউকে ছাড়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার জিবি হাসপাতালে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর হেজামারা কমিউনিটি হলে শারদোৎসব উপলক্ষে মহিলাদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণের একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানে সাংসদ বিপ্লব কুমার দেবের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। দুপুর ১২:৩০ নাগাদ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, দুপুর ১২টার কিছু আগে তিপ্রা মথার কর্মী-সমর্থকরা কমিউনিটি হলে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বিজেপি নেতা মঙ্গল দেববর্মার দাবি, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে বিজেপি কর্মীদের উপর আক্রমণ করে এবং অনুষ্ঠান বন্ধ করার উদ্দেশ্যে তাদের মারধর করে। এই হামলায় মঙ্গল দেববর্মার মাথা ফেটে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। এছাড়া আরও ৫ থেকে ৭ জন বিজেপি কর্মী আহত হন।
এই ঘটনায় আক্রান্ত সাংবাদিক কমল কান্তি ত্রিপুরার জন্য সাংবাদিক সম্প্রদায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে হেজামারায় খোয়াই-আগরতলা সড়ক অবরোধ করেন সাংবাদিক প্রতিনিধিরা। আগরতলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি প্রণব সরকারের নেতৃত্বে খুমুলুঙ প্রেসক্লাব, ত্রিপুরা ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া সোসাইটি এবং ত্রিপুরা জার্নালিস্ট ইউনিয়নের উদ্যোগে এই অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে এসডিপিও আশ্বাস দেন যে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আক্রমণকারীদের গ্রেফতার করা হবে। এই আশ্বাসের ভিত্তিতে সাংবাদিকরা অবরোধ তুলে নেন।
খ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “শারদোৎসবের মতো একটি শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানে এ ধরনের হামলা অগ্রহণযোগ্য। আইন তার নিজস্ব পথে চলবে। কেউ আইনের বেড়াজাল থেকে রেহাই পাবে না।” তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং এই ঘটনার তদন্তে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দেন।


