নিউজ ডেস্ক || রাজ্যের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার লক্ষ্যে বড় উদ্যোগ নিল ত্রিপুরা সরকার। বুধবার আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মুখ্যমন্ত্রী নিরাময় আরোগ্য অভিযান’-এর সূচনা করেন। একই অনুষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর পাইলট প্রশিক্ষণ পর্বেরও উদ্বোধন করা হয়।
“এক ত্রিপুরা, সুস্থ ত্রিপুরা” গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এই অভিযানকে গণআন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতাই এই কর্মসূচির সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
অভিযানের প্রথম পর্যায় শুরু হবে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে এবং দ্বিতীয় পর্যায় পয়লা জুলাই ২০২৬ থেকে। প্রথম পর্যায়ে প্রথম সাত দিন তৃণমূল স্তরে ব্যাপক জনসংযোগ কর্মসূচি চলবে। তারপরের সাত দিন স্ক্রিনিং স্বাস্থ্য শিবির আয়োজিত হবে এবং প্রয়োজন অনুসারে ফলো-আপ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে স্ক্রিনিং-এর পরিধি ও গুণগত মান বাড়ানো হবে। গত স্বাস্থ্য অভিযানে প্রায় ৬ লক্ষ ৮০ হাজার মানুষের স্ক্রিনিং করা হয়েছিল। তাতে উঠে এসেছে রাজ্যে প্রায় ২.৫ লক্ষ ডায়াবেটিস রোগী, ২.২ লক্ষ হাইপারটেনশন আক্রান্ত এবং বিভিন্ন ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫.২৮ লক্ষ। এই বাস্তব চিত্রকে মাথায় রেখে আরও পরিকল্পিত ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে নাগরিকদের সুস্থ ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা। বিশেষ করে নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ যেমন ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, ক্যান্সারসহ দীর্ঘস্থায়ী রোগের প্রাথমিক সনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা ও নিয়মিত ফলো-আপের উপর জোর দেওয়া হবে।
আশা কর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্ক্রিনিং, সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরকে কেন্দ্র করে অভিযান বাস্তবায়িত হবে। সেখানে অ্যালোপ্যাথি, ডেন্টাল ও আয়ুষ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে রক্তচাপ-ডায়াবেটিস পরীক্ষা, কিডনি-লিভার-ফুসফুস-হৃদরোগের ঝুঁকি নিরূপণসহ বিভিন্ন পরিষেবা দেওয়া হবে। যাঁদের ABHA আইডি নেই, তাঁদের জন্য ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিচয় তৈরির ব্যবস্থাও করা হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ত্রিপুরার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা।


