নিউজ ডেস্ক || ত্রিপুরা বিধানসভার সদ্য প্রয়াত অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেনের স্মৃতিচারণ সভায় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা তাঁকে একজন সত্যিকারের জননেতা এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আগরতলার নজরুল কলাক্ষেত্রে অনুষ্ঠিত এই সভায় ডা. সাহা তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক অবদানের কথা স্মরণ করেন।
স্মৃতিচারণ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে এমবিবি কলেজে পড়াশোনার সময় থেকেই বিশ্ববন্ধু সেনের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। সেই সময়ের রাজনৈতিক অশান্তি, সন্ত্রাস এবং বাম শাসনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ডা. সাহা বলেন, “ওই সময়ে এমন একটা পরিস্থিতি ছিল যেখানে খুন, সন্ত্রাস, বোমাবাজি ইত্যাদি ঘটনা লেগে থাকতো।” পরবর্তীকালে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদানের পর ধর্মনগরে কাজের সূত্রে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। ডা. সাহা জানান, বিশ্ববন্ধু সেন সবসময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন এবং তাঁকে বন্ধু হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও স্মরণ করেন, বিশ্ববন্ধু সেনের শেষ দর্শন ৮ আগস্টে, যখন তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চা খেয়ে যান। পরবর্তীতে তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয় এবং চিকিৎসার জন্য ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ থেকে আইএলএস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে নিয়ে যাওয়া হলেও তিনি জীবনযুদ্ধে হার মানেন। ডা. সাহা বলেন, “কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে সবসময় প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ করে গিয়েছেন তিনি। বিধানসভার কার্য পরিচালনার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির প্রদেশ সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য, উপাধ্যক্ষ রাম প্রসাদ পাল, প্রাক্তন অধ্যক্ষ রতন চক্রবর্তী সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি এবং দলীয় নেতৃত্ব। এই ঘটনা ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
বিশ্ববন্ধু সেনের প্রয়াণ ত্রিপুরার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে একটি বড় শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে তাঁর অবদানকে স্মরণ করে রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজে অনুপ্রাণিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, যা রাজ্যের জননেতাদের জন্য একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।


