নিউজ ডেস্ক || আজ, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ঊনকোটি জেলার ফটিকরায় থানার অধীন সায়দারপার-শিমুলতলা এলাকা যেন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আসন্ন ২৪-২৬ জানুয়ারি ভৈরব মেলার চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বচসা দ্রুতই ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়।
কাঠবোঝাই গাড়ির মালিক মসব্বির আলীর সঙ্গে মেলা কমিটির লোকজনের বিতর্ক থেকে শুরু হয় এই অশান্তি। এরপরই রাস্তা অবরোধ, একাধিক দোকান-বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ব্যাপক ভাঙচুর এবং মারপিটে পুরো এলাকা আতঙ্কে ছেয়ে যায়। কাঠের দোকান, যানবাহন, বসতবাড়ি সবকিছু আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে, ১৬৩ ধারা জারি করে জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জেলাশাসক ডঃ তমাল মজুমদার এবং ভারপ্রাপ্ত এসপি অবিনাশ রাই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন।
বিশাল পুলিশ, টিএসআর, সিআরপিএফ এবং আসাম রাইফেলসের জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে।
মৃদু লাঠিচার্জ এবং ড্রোন নজরদারির মাধ্যমে উত্তেজিত ভিড় ছত্রভঙ্গ করা হয়।
৪৮ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—গুজব রোধ করতে।
ইতিমধ্যে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, কিছু দুষ্কৃতী পরিকল্পিতভাবে এলাকায় ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েছে।
স্থানীয় মন্ত্রী সুধাংশু দাস সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেছেন, এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা। প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সবাইকে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে—পূজোর নামে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস কবে বন্ধ হবে? সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কি এভাবেই বিপন্ন থাকবে?
আমরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। শান্তি বজায় রাখতে সবাই সহযোগিতা করুন।


