নিউজ ডেস্ক || ত্রিপুরার কুমারঘাটে ডার্লং সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী থার্লাক কুট উৎসবের উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। এই উৎসব ফসল তোলার অনুষ্ঠান হিসেবে পরিচিত, যা সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ঐক্যকে তুলে ধরে। ‘সময়ের পালক’ থিমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের জনজাতি উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগের উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
ডার্লং সম্প্রদায়কে তালিকাভুক্ত জনজাতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ডার্লংরা শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে অনেক এগিয়ে রয়েছে। এই উৎসব তাদের ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করবে।” রাজ্য বাজেটে জনজাতিদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে নাবার্ডের অর্থে দূরবর্তী এলাকায় রাস্তাঘাট ও পরিকাঠামো উন্নয়ন অন্যতম। এছাড়া, ১২টি জনজাতি অধ্যুষিত ব্লককে অ্যাসপিরেশনাল ব্লক হিসেবে চিহ্নিত করে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। জনজাতি সম্প্রদায়ের ৭ জনকে পদ্মশ্রী সম্মান দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে থাংগা ডার্লং রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায়, বিধায়ক ভগবান চন্দ্র দাস সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের ক্যালেন্ডারে এই উৎসব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জনজাতি ছাত্রাবাসে স্মার্ট ক্লাস ও খাবারের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, যাতে ৩৪ হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রী উপকৃত। পি.এম. জনমন প্রকল্পে রিয়াং জনজাতির জন্য ৩২২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
ডার্লং ইনমে ইনজোমের সভাপতি টিংখুমা ডার্লং জানান, বিধায়ক ভগবান চন্দ্র দাসের তহবিল থেকে সংস্থাকে অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা হয়েছে। এই উৎসব ডার্লং সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস ও পোশাকের প্রদর্শনীও অন্তর্ভুক্ত করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের উদ্যোগ জনজাতিদের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যা রাজ্যের সামগ্রিক অগ্রগতিকে শক্তিশালী করবে।


