প্রবল কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে ত্রিপুরা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজ্যজুড়ে বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর মানিক সাহা এই পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার সরকারি বাসভবনে উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক করেছেন।
বৈঠকে মুখ্য সচিব, পুলিশ মহানির্দেশক, জেলাশাসক ও বিভিন্ন দপ্তরের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসনের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষয়ক্ষতির সর্বশেষ চিত্র জানেন। প্রাথমিক হিসাব অনুসারে, রাজ্যে ১,৫০০ থেকে ২,০০০-এর বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৭৬ থেকে ১১২টি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং ১,২০০টিরও বেশি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ধলাই জেলায়। ঊনকোটি জেলায় অন্তত ৫১৮টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ১২৯টির বেশি বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। লংতরাই ভ্যালিতে একজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় প্রাথমিক হিসেবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দ্রুত দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বিদ্যুৎ, রাস্তা ও পানীয় জলের পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করতে এবং জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। সব দপ্তরকে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকার পরিস্থিতির ওপর কঠোর নজর রাখছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ত্রাণ বিতরণের কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই দুর্যোগ প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।


