নিউজ ডেস্ক || পরিবেশকে স্বাস্থ্যকর ও দূষণমুক্ত রাখা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলার লক্ষ্যে রবিবার ত্রিপুরায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ক্ষেত বাঁচাও অভিযান’-এর সূচনা করলেন কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতন লাল নাথ। আগামী ১ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে এই সচেতনতামূলক কর্মসূচি চলবে।
দক্ষিণ জেলার ভরতচন্দ্র নগর ও রাজনগরে নবনির্মিত দুটি কৃষি উন্নয়ন গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (আইটি সুবিধাসহ) এবং বিলোনিয়া ডেপুটি ডিরেক্টরের নতুন অফিস ভবনের উদ্বোধনের পর মন্ত্রী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তন, গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বায়ু ও জল দূষণ, মাটিতে জৈব কার্বনের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের ব্যবহার পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতি থেকে ত্রিপুরাও মুক্ত নয়।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার দেশব্যাপী ১ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ‘ক্ষেত বাঁচাও অভিযান’ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই রাজ্যে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গ্রাম পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত এই প্রচারাভিযান পৌঁছে কৃষকদের মধ্যে প্রাকৃতিক চাষের প্রসার এবং তৈলবীজ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে রাজ্যের ৫,৫৫০ হেক্টর জমিতে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ হচ্ছে, যেখানে ১৩,৮৭৫ জন কৃষক যুক্ত রয়েছেন। চলতি বছরে আরও ১১,২৫০ হেক্টর জমিকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে বছরের শেষে মোট প্রাকৃতিক চাষের পরিমাণ ১৬,৮০০ হেক্টরে পৌঁছাবে।
তিনি জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজেদের চাষযোগ্য জমির অন্তত ২৫ শতাংশ অংশে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করলে সাধারণ কৃষকরাও উৎসাহিত হবেন।
রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার, গোবর সার, কম্পোস্ট ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী ভোজ্য তেলের অপচয় কমানোরও আহ্বান জানান।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ত্রিপুরায় ২৬,৬৬১ হেক্টর জমিতে অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে এবং এর সঙ্গে ২৬,৮৮৪ জন কৃষক যুক্ত রয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ধীরে ধীরে অর্গানিক চাষ থেকে প্রাকৃতিক চাষের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক চাষে উৎপাদন খরচ কম হয়, ফলনও সন্তোষজনক এবং এটি পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। কৃষকদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজ্য সরকার ২০৪৭ সাল পর্যন্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি ‘কৃষি রোডম্যাপ’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এছাড়াও তিনি ‘ফার্মার রেজিস্ট্রি’-র গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, প্রতিটি কৃষকের জন্য একটি ইউনিক আইডি তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দ্রুত ও সহজে পৌঁছে দেওয়া যায়। বর্তমানে রাজ্যে ৬৩,৭৮৪ জন কৃষকের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত শতভাগ কৃষককে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।


