আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি সমঝোতার খসড়া তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। মাত্র ১৪টি দফা এবং ৮০০ শব্দেরও কম টেক্সটে সীমাবদ্ধ এই খসড়া চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলেও এর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অস্পষ্ট রয়ে গেছে।
সূত্রগুলো জানায়, চুক্তিতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করা বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করার বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট সময়সূচি বা বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে, ইরান কবে এবং কীভাবে তাদের বিদ্যমান পরমাণু ভাণ্ডার হস্তান্তর করবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা অনুপস্থিত।
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালীকে পূর্ণাঙ্গভাবে নৌ-চলাচলের উপযোগী করার শর্ত রাখা হয়েছে। তবে ওই এলাকায় ইরানের পেতে রাখা মাইনগুলো কে বা কোন পক্ষ সরাবে, সে বিষয়ে কোনো পরিষ্কার নির্দেশনা নেই। ফলে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, আলোচনার সময় ইরানের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করা। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের খবর প্রকাশের পরও লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এতে চুক্তির কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল এবং বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র সংশয় দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সংঘাতসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে স্পষ্টতা না থাকলে এই শান্তি উদ্যোগ কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকার ঝুঁকি রয়েছে।


