জীবনের চ্যালেঞ্জকে ভয় না পেয়ে নতুন সমাধান খোঁজার মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জকেই সুযোগে পরিণত করার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার আইআইটি দিল্লির ৫৭তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশের তরুণ প্রজন্মকে কৌতূহল ও শেখার মানসিকতা সারাজীবন ধরে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা নতুন সমাধান খোঁজার সাহস রাখেন, তাদের কাছে চ্যালেঞ্জই একসময় সুযোগ হয়ে ওঠে। জীবনে সবসময় কৌতূহলী থাকতে হবে এবং শেখার প্রবণতা বজায় রাখতে হবে। সমাজে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত বা প্রশ্নহীনভাবে মেনে নেওয়া বিষয়গুলিকেও প্রশ্ন করার সাহস দেখাতে হবে। তবে শুধু প্রশ্ন করলেই হবে না, সেই সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার মানসিকতাও থাকতে হবে।
আইআইটি দিল্লির পড়ুয়াদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের ডিগ্রি শুধুমাত্র ভালো নম্বর, উচ্চ সিজিপিএ বা আকর্ষণীয় চাকরির নিশ্চয়তা নয়। এই ডিগ্রি গোটা বিশ্বের কাছে তাঁদের কঠিন সমস্যা সমাধানের দক্ষতার একটি স্বীকৃতি।
তিনি বলেন, জীবনের পরীক্ষা কখনও ‘আউট অব সিলেবাস’ নয়—বরং জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলিই অনেক সময় আগে থেকে নির্ধারিত থাকে না। তাই তরুণদের এমন সমস্যাগুলি চিহ্নিত করতে হবে, যেগুলিকে সমাজ দীর্ঘদিন ধরে স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়েছে, এবং সেগুলির সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী ভারতের আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং শিল্প—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভারতকে আত্মনির্ভর করে তোলার কাজ চলছে। এই আত্মনির্ভরতার শক্ত ভিত্তিই ভবিষ্যতের ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তুলবে।
তরুণদের জন্য দেশের বিভিন্ন নতুন ক্ষেত্রের দরজা খুলে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। মহাকাশ, সেমিকন্ডাক্টর, ড্রোন, স্টার্টআপ, ফিনটেক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সেন্টার, ক্রিটিক্যাল মিনারেল, গভীর সমুদ্র গবেষণা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং শক্তি নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রগুলিতে বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
মহাকাশ ক্ষেত্রে সংস্কারের ফলে তরুণরা এখন নিজেদের রকেট তৈরি ও উৎক্ষেপণের সুযোগ পাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন মোদি। একইভাবে দেশে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের সূচনা এবং ড্রোন প্রযুক্তির কৃষি, চিকিৎসা পরিষেবা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ব্যবহারের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
ভারতের স্টার্টআপ বিপ্লবের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউনিকর্ন, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং ফিনটেকের দ্রুত বিকাশ দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণকে নতুন কিছু করার সুযোগ করে দিয়েছে।
গবেষণার ক্ষেত্রেও তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর রিসার্চ ফেলোশিপ এবং অনুসন্ধান ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন-সহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, গবেষণাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান সাবস্ক্রিপশন’ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষকদের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা জার্নালে প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সমাবর্তনরত পড়ুয়াদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে নিজেদের সাফল্যের তুলনা না করার পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী। কারও বেতন, চাকরি, স্টার্টআপ বা সাফল্যের সঙ্গে নিজের জীবনকে তুলনা না করে নিজের উন্নতির দিকে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান তিনি।
মোদি বলেন, “জীবন কোনও লিডারবোর্ড নয়। তোমাদের আসল প্রতিযোগিতা অন্য কারও সঙ্গে নয়, নিজের সঙ্গে।”
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে স্নাতক পড়ুয়া, তাঁদের অভিভাবক, শিক্ষক, অধ্যাপক ও প্রতিষ্ঠানের সহায়ক কর্মীদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তরুণদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হোক এবং তাঁরা নতুন নতুন উচ্চতায় পৌঁছন—এই শুভকামনা জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান