উনকোটি জেলায় উন্নয়নের ধারাকে আরও এগিয়ে নিতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। মোট ১৮টি প্রকল্পের মধ্যে ৬টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ১২টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এই প্রকল্পগুলির জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ কোটি ১৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে উনকোটি জেলায় মোট ৫৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের সম্মিলিত মূল্য প্রায় ১৯৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিকাঠামো, পর্যটন, শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক ক্ষেত্রে উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
পর্যটন ক্ষেত্রকে উনকোটির অর্থনৈতিক বিকাশের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ‘পরিচ্ছন্ন ও সবুজ উনকোটি’ উদ্যোগের মাধ্যমে পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি ডুম্বুর, মাতাবাড়ি, নীরমহল ও উজ্জয়ন্ত প্রাসাদের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলির সার্বিক বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঐতিহাসিক পুষ্পবন্ত প্রাসাদকে পাঁচতারা হোটেলে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে। একইসঙ্গে কৈলাশহর বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ নিয়ে কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানানো হয়েছে।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ত্রিপুরায় নতুন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়। ২০২৬ সালের ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস সামিট’-এ প্রায় ১,২০০ জন বিনিয়োগকারী অংশগ্রহণ করেন এবং প্রায় ১ লক্ষ ৩২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব আসে। এর আগে প্রাপ্ত বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলির মধ্যে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ইতিমধ্যেই বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
চলতি অর্থবর্ষে পরিকাঠামো উন্নয়ন ও মূলধনী ব্যয়ের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা গত বছরের ৭ হাজার কোটি টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এদিকে চলতি অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন অথবা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও একাধিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। জনজাতি শিক্ষার্থীদের জন্য ২১টি একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ে স্মার্ট ক্লাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উত্তর ত্রিপুরা ও উনকোটি জেলায় পর্যায়ক্রমে ট্রমা সেন্টার স্থাপন এবং কৈলাশহর হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
কৈলাশহর মহকুমায় উন্নয়নমূলক কাজের প্রসঙ্গে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রী টিঙ্কু রায় জানান, ডিএম অফিস, মহকুমা শাসকের কার্যালয়, শ্রম দপ্তর এবং নেশামুক্তি হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার পরিকাঠামো উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের আওতায় সুবিধাভোগীদের সহায়তাও প্রদান করা হয়। SVEP (AGEY) প্রকল্পের অধীনে পণ্য পরিবহনের গাড়ি, ডলুগাঁও উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে সাইকেল এবং দিব্যাঙ্গজনদের হুইলচেয়ার ও শ্রবণযন্ত্র প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উনকোটি জিলা পরিষদের সভাপতি অমলেন্দু দাস, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রী টিঙ্কু রায়, কৈলাশহর পৌর পরিষদের চেয়ারপারসন চপলা রানী দেববর্মা, ত্রিপুরা রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান মবশ্বার আলী এবং উনকোটি জেলার জেলা শাসক ও সমাহর্তা মেঘ জৈন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অমলেন্দু দাস এবং স্বাগত ভাষণ দেন জেলা শাসক মেঘ জৈন।
উনকোটিতে একসঙ্গে এতগুলি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনবে বলেই মনে করা হচ্ছে। পর্যটন, বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে উনকোটিকে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে প্রশাসন।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান