অসম-অরুণাচলে ভয়াবহ বন্যা, সিকিম-মেঘালয়ে ধস অব্যাহত; ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা উত্তর ও ধলাই জেলায়, আগরতলায় ভ্যাপসা গরমে অস্বস্তি।
উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে ভারী বর্ষণের জেরে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। অরুণাচল প্রদেশ ও অসমে প্রবল বৃষ্টির কারণে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একই সঙ্গে সিকিম ও মেঘালয়ের বিভিন্ন এলাকায় অব্যাহত রয়েছে ধসের ঘটনা, ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এবং সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু হেলিকপ্টারে করে অসমের বন্যা-কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
এদিকে, ত্রিপুরায় আগামী ৪ জুলাই থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনায় রাজ্যজুড়ে হলুদ সতর্কবার্তা (ইয়েলো অ্যালার্ট) জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ত্রিপুরা ও ধলাই জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পশ্চিম ত্রিপুরা ও উনকোটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
আগরতলা শহরে আগামী ২৪ ঘণ্টায় গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। মাঝেমধ্যে হালকা বৃষ্টি হলেও তা তাপপ্রবাহসদৃশ অস্বস্তি থেকে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি দেবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় তাপমাত্রার তেমন কোনো বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। আগরতলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৩৪.৯°C) এবং কৈলাশহরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে। একই সঙ্গে বাতাসে সর্বোচ্চ আর্দ্রতা ৯৬ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৬২ শতাংশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে মেঘলা আকাশের পাশাপাশি তীব্র আর্দ্রতাজনিত ভ্যাপসা গরমে রাজ্যবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া ঝড়-বৃষ্টির সময় বাইরে না বের হওয়ার, বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার এবং আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশিকা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


