আগরতলা, প্রতিনিধি: রাজ্যে কন্যাশিক্ষার প্রসার এবং বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রীদের বিনামূল্যে সাইকেল বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে রাজ্য সরকার। চলতি বছরে রাজ্যের মোট ৪১ হাজার ৮০০ জন নবম শ্রেণীর ছাত্রীকে সাইকেল প্রদান করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয় আগরতলার শিশুবিহার স্কুলে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২ লক্ষ ৫৩ হাজার ১৮৭ জন ছাত্রী এর সুবিধা পেয়েছে। সরকারের মতে, এই উদ্যোগের ফলে দূরবর্তী এলাকার ছাত্রীরাও সহজে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারছে এবং শিক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে জেলা শাসক এবং শিক্ষা দপ্তরের সচিবকে নিয়মিতভাবে স্কুল পরিদর্শন ও নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান, যাতে তারা নেশা ও অন্যান্য সামাজিক কুপ্রভাব থেকে দূরে থাকতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, অন্ত্যোদয় তালিকাভুক্ত পরিবারগুলিতে মেয়েদের বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ‘মুখ্যমন্ত্রী কন্যা বিবাহ যোজনা’-র আওতায় ৪৫ জন উপভোক্তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কন্যা সন্তানের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও বিবাহের জন্য ১০৫টি পরিবারের নামে ৫০ হাজার টাকা করে ফিক্সড ডিপোজিট করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি বক্তব্য রাখেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার এবং শিক্ষা দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, বর্তমান সরকার কন্যাশিক্ষার প্রসারে বদ্ধপরিকর এবং সাইকেল বিতরণ কর্মসূচি ছাত্রছাত্রীদের “বিকশিত ত্রিপুরা” গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে অনুপ্রাণিত করবে।


