আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ডিজিটাল শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরই তা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই। তিনি দাবি করেছেন, শুরুতে ইরান এই চুক্তিতে সই করতে রাজি ছিল না; কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র ও সর্বাত্মক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত দেশটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছে।
খামেনেই জানান, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রাথমিক শর্তাবলি ইরানের নীতিনির্ধারকদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। পরে দেশটির প্রেসিডেন্ট এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সর্বোচ্চ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ বিবেচনা করে চুক্তিতে সই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জানা গেছে, গত বুধবার প্যারিসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর সঙ্গে বৈঠক চলাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে এই ডিজিটাল শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে পাকিস্তান।
তবে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই ইরানের আপত্তি উপেক্ষা করে লেবাননে হামলা চালায় ইসরাইল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই চুক্তির কার্যকারিতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে থাকে।
মোট ১৪টি শর্তের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে গত সাড়ে তিন মাস ধরে চলমান সংঘর্ষের অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু শর্তগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ না হওয়া এবং চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে সংশয় তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট এবং চুক্তির অস্পষ্ট দিকগুলো দ্রুত নিরসন না হলে এর দীর্ঘমেয়াদি সফলতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। ফলে বহুল আলোচিত এই শান্তি চুক্তি আদৌ স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে পারবে কি না, তা নিয়েই এখন আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।


