ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপের প্রভাবে সোমবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা; বন্যা, ভূমিধস ও জলাবদ্ধতা নিয়ে প্রশাসনের কড়া সতর্কবার্তা।
ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপ অক্ষরেখার প্রভাবে ত্রিপুরাজুড়ে টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। এই পরিস্থিতিতে গোটা রাজ্যের জন্য জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কবার্তা। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সোমবার পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎসহ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা এবং বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় একটি ঘূর্ণাবর্তের কারণে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে। এরই প্রভাবে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
অবিরাম বৃষ্টিতে খোয়াই, ধলাই, মনু, মুহুরি, দেও, হাওড়া ও গুমতী নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে ধলাই, খোয়াই ও গুমতী জেলা থেকে। প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যের ৩০০-রও বেশি ঘরবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন ইতোমধ্যে ৩১টিরও বেশি ত্রাণ শিবির চালু করেছে, যেখানে ৩,০০০-এর বেশি মানুষের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরিত হয়েছেন।
এদিকে, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি থাকায় প্রশাসন সাধারণ মানুষকে অতি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে নদীসংলগ্ন ও ধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নদী ও জলাশয়ে প্রবল স্রোতের কারণে এই সময়ে মাছ ধরতে না যাওয়ার জন্যও সতর্ক করেছে প্রশাসন।
পরিস্থিতির ওপর প্রশাসন ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য রাজ্যবাসীর প্রতি আবেদন জানানো হয়েছে।


