নিউজ ডেস্ক || গত দুই দিন ধরে ত্রিপুরায় অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাতে জনজীবনে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। হাওড়া নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়তে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, সিপাহীজলা জেলার বিশ্রামগঞ্জে সর্বাধিক ২১১ মিলিমিটার এবং ধলাই জেলার গন্ডাছড়ায় সর্বনিম্ন ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূল সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে গতকাল অবস্থান করা অতি-গভীর নিম্নচাপটি আজ সকাল ৮:৩০ টায় উত্তর বাংলাদেশের উপর অবস্থান করছিল। এটি উত্তর-উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে ত্রিপুরায় আগামী দুই দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি কিছু এলাকায় অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আজ সারাদিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সকালে সব জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি ছিল।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, আগরতলায় ১২১.৬ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার বোধজংনগরে ১০৭ মিমি, ডিএম অফিসে ৮২ মিমি, এডি নগরে ১৩৬ মিমি, জিরানিয়ায় ১৫৮ মিমি, সচিবালয়ে ৭৬.৫ মিমি এবং হাওরায় ১১৫ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
সিপাহীজলা জেলার সোনামুড়ায় ১৬৭ মিমি, বিশালগড়ে ৮৮ মিমি, বিশ্রামগঞ্জে ২১১ মিমি, গজারিয়ায় ১০৯ মিমি এবং মোহনবাগে ২০৪ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। খোয়াই জেলায় ১২২ মিমি এবং তেলিয়ামুড়ায় ১১২ মিমি, গোমতী জেলার অমরপুরে ৯২.২ মিমি এবং করবুকে ৭১.৬ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বিলোনিয়ায় ৮৮ মিমি, সাব্রুমে ১০৯.৪ মিমি এবং বাগাফায় ৮৬.৫ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উত্তর ত্রিপুরা জেলার পানিসাগরে ৬৭.৮ মিমি, কাঞ্চনপুরে ৪৬.৪ মিমি, কদমতলায় ৬৬.৫ মিমি এবং নতুনবাজারে ১৩৮ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ঊনকোটি জেলার কুমারঘাটে ৭৮.২ মিমি এবং কৈলাসহরে ৮৪.৫ মিমি, ধলাই জেলার গন্ডাছড়ায় ৩৩ মিমি, ছাওমনুতে ৪৪.৭ মিমি, কমলপুরে ৭০.৬ মিমি এবং মনুঘাটে ৬৭.৪ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে।


