প্রথম দফার রেকর্ড ভোট, নারীর নিরাপত্তা ইস্যুতে জোর—দ্বিতীয় দফার আগে তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক লড়াই
বাংলা বিধানসভা নির্বাচনের আবহ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সেই প্রেক্ষাপটে দমদমের জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর দাবি, রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া ইতিমধ্যেই বইতে শুরু করেছে এবং প্রথম দফার ভোটেই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “টিএমসি-র প্রদীপ নিভে যাওয়ার উপক্রম—মিটমিট করে কাঁপছে। বাংলায় পরিবর্তনের ঢেউ উঠেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে ১১০টিতেই বিজেপি এগিয়ে রয়েছে—যদিও এই দাবির স্বাধীন যাচাই এখনও বাকি।
মোদীর ভাষণে বিশেষ গুরুত্ব পায় নারী সুরক্ষার বিষয়টি। তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে নারীর নিরাপত্তা হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাঁর আশ্বাস, “৪ঠা মে সরকার গঠনের পরই নারীদের ওপর অত্যাচারের সমস্ত ফাইল নতুন করে খোলা হবে—এটাই মোদীর গ্যারান্টি।”
এদিন আত্মবিশ্বাসী সুরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “৪ঠা মে বিজেপি সরকার গঠন করবে, আর মুখ্যমন্ত্রী হবেন বাংলারই একজন কর্মী।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রথম দফার ভোটে নজিরবিহীন ৯২.৭২ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এই বিপুল ভোটদান কি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, নাকি ক্ষমতাসীনদের প্রতি সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ—তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তর্ক-বিতর্ক তুঙ্গে।
আগামী ২৯শে এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ৪ঠা মে প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ফলাফল। ততদিন পর্যন্ত বাংলার রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়বে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।


