নির্ধারিত সময়ের প্রায় দু’দিন পর অবশেষে ত্রিপুরায় বর্ষার আনুষ্ঠানিক আগমন ঘটেছে। তবে দেরিতে প্রবেশ করলেও চলতি মৌসুমে বর্ষার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব লক্ষ্য করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে আগরতলা আবহাওয়া দপ্তর।
বর্ষা সক্রিয় থাকায় আগামী ১০ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত রাজ্যের আটটি জেলার জন্য হলুদ সতর্কতা (Yellow Alert) জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, হলুদ সতর্কতার অর্থ হলো আবহাওয়ার পরিবর্তনের দিকে বিশেষ নজর রাখা এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১০ জুন সকাল থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকবে। বিশেষ করে ১০, ১১ এবং ১২ জুন রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ১৩ ও ১৪ জুনেও ঝড়-বৃষ্টির এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ১৫ থেকে ১৭ জুনের মধ্যে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
আবহাওয়াবিদদের মতে, আদ্রতাপূর্ণ জলবায়ুর প্রভাবে হঠাৎ বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে ভারী বৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং বজ্রপাতের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, বড় গাছ কিংবা বৈদ্যুতিক খুঁটির আশপাশে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে কৃষকদের ফসল সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকেও সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আগামী তিন থেকে চার দিন রাজ্যের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি থাকবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। বর্ষার এই সক্রিয় পর্যায়ে সতর্কতা ও সচেতনতার মাধ্যমেই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


