আগরতলা, ১১ জুন: “Viksit Bharat-এর জন্য মানব সম্পদ” শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে ত্রিপুরার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ‘লক্ষ্য ২০৪৭’ (Lakshya 2047) তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজ্যের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিভিন্ন কর্মসূচি বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ছয় বছরে ত্রিপুরার মোট রাজ্য অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (GSDP) দ্বিগুণ হয়েছে। পাশাপাশি, ত্রিপুরা দেশের তৃতীয় পূর্ণ সাক্ষর রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বিগত আট বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ রাজ্যটি ৩৫০টিরও বেশি জাতীয় ও আঞ্চলিক পুরস্কার অর্জন করেছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনতে রাজ্য সরকার ‘মিশন মুকুল’, ‘নিপুণ কর্নার’ এবং ‘বিদ্যা-সেতু’ মডিউলের মতো একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষা এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এসব প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারের PM-SHRI প্রকল্পের অধীনে ৮৪টি মডেল স্কুল গড়ে তোলা হচ্ছে। এছাড়া ‘বিদ্যা জ্যোতি’ প্রকল্পের মাধ্যমে ১২৫টি বিদ্যালয়কে CBSE অনুমোদিত মডেল স্কুলে রূপান্তর করা হচ্ছে। ডিজিটাল শিক্ষার প্রসারে স্মার্ট ক্লাসরুম, টিঙ্কারিং ল্যাব এবং রাজ্যের নিজস্ব শিক্ষা চ্যানেল ‘বন্দে ত্রিপুরা’র মাধ্যমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষাকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও পুষ্টি ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। ‘পোষণ ট্র্যাকার’-এর আওতায় ৩ লক্ষাধিক আধার-যাচাইকৃত সুবিধাভোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নীতি আয়োগের সহায়তায় ১২৫টি বিদ্যালয়ে ‘স্কুল হেলথ মিশন’-এর অধীনে ডেডিকেটেড নার্স নিয়োগ করা হয়েছে।
এছাড়া ‘স্বাস্থ্য শৈশব স্বাস্থ্য কৈশোর অভিযান’-এর মাধ্যমে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিচালিত আটটি কর্মসূচিতে ৯৮ শতাংশ সাফল্য অর্জনের দাবি করা হয়েছে। ‘নিরাময় আরোগ্য অভিযান’-এর আওতায় ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের অসংক্রামক রোগ শনাক্তকরণের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।
চিকিৎসা পরিকাঠামো সম্প্রসারণের লক্ষ্যে রাজ্যে এমবিবিএস আসনের সংখ্যা ২২৫ থেকে বাড়িয়ে ৫৫০ করা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে ব্যবসা-বাণিজ্যের সহজীকরণ, যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করতে স্টার্ট-আপ সংস্কৃতির বিকাশ এবং খেলাধুলার প্রসারের ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নত ত্রিপুরা গড়তে মানবসম্পদ উন্নয়নই হবে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় শক্তি।


