রাশিয়া ও ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক আরও একবার নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্পষ্ট বার্তা দেন যে, ভারত বা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা হলে তার পরিণতি শুভ হবে না। তিনি ইঙ্গিত দেন, যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রাশিয়া ভারতের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে।
এদিকে, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা কিছু শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করার পরও ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের বিভিন্ন প্রচেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। নির্ধারিত ১৮ শতাংশ শুল্কের বাইরেও বাড়তি শুল্ক চাপানোর বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ও মতপার্থক্য অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধের অন্যতম বড় কারণ রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ভারত যেন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা কমায় বা বন্ধ করে। এমন শর্তের সঙ্গেই বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা এগিয়ে নিতে আগ্রহী ওয়াশিংটন। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
তবে ভারত বারবার স্পষ্ট করেছে যে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার নয়াদিল্লির রয়েছে। কোন দেশ থেকে কী আমদানি বা রপ্তানি করা হবে, তা সম্পূর্ণ ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত এবং এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।
এই পরিস্থিতিতে পুতিনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। রাশিয়ার এই অবস্থান স্পষ্ট করে যে, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক চাপের মধ্যেও মস্কো-নয়াদিল্লি সম্পর্ক আগের মতোই দৃঢ় রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও রাশিয়া ভারতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে।


