নিউজ ডেস্ক || শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে ঠান্ডা হয়ে যাওয়া ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে উষ্ণতার স্পষ্ট সংকেত দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের গোপনীয় দিল্লি সফরের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে প্রকাশ্য উদ্বেগ এবং “সর্বোচ্চ সহায়তা” দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের নতুন দিশা দেখাচ্ছে।
২০২৪ সালের আগস্টে হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক উত্তপ্ত। গত নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং প্রত্যর্পণ দাবির কারণে ঢাকা-দিল্লি যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এর মধ্যে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন বিরোধী শক্তি উত্থান লাভ করেছে। জরিপে দেখা যাচ্ছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি বড় জয় পেতে পারে। ভারত উদ্বিগ্ন, জামায়াতে ইসলামীর প্রভাব বৃদ্ধি পাকিস্তান-চীনের প্রভাব বাড়াতে পারে।
গত ১৯-২০ নভেম্বর খলিলুর রহমান দিল্লিতে ভারতের এনএসএ অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনা গোপনীয় থাকলেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্পর্ক “মসৃণ” করার উদ্দেশ্যেই এ সফর। এরপর ১ ডিসেম্বর মোদি এক্স-এ লেখেন, “বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগে আছি। তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। প্রয়োজনে ভারত সর্বোচ্চ সহায়তা দেবে।” বিএনপি এই বার্তাকে “মহা আশার আলো” বলে স্বাগত জানিয়েছে।
এই পদক্ষেপগুলো ইঙ্গিত দেয়, ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে ভারত বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে চায়। প্রত্যর্পণ ইস্যু এখনো জটিল থাকলেও দুই দেশই বোঝে, স্থিতিশীল সম্পর্ক ছাড়া অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আগামী মাসগুলোতে উচ্চপর্যায়ের সফর ও আলোচনা বাড়লে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন ভারসাম্য গড়ে উঠতে পারে।


