সন্তোষ পাল || উত্তর-পূর্ব ভারতের হিমালয় অঞ্চলে অবস্থিত সিকিম রাজ্য তার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রমের জন্য পর্যটকদের কাছে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই রাজ্যটি ভারতের অন্যতম সুন্দর গন্তব্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, যা বছরে লক্ষাধিক দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করে।
সিকিমের ভৌগোলিক অবস্থান হিমালয়ের কোলে হওয়ায় এখানে বৈচিত্র্যময় জলবায়ু এবং ল্যান্ডস্কেপ দেখা যায়। রাজধানী গ্যাংটক থেকে শুরু করে পেলিং, য়ুমথাং ভ্যালি, নাথুলা পাস, চোংগো লেক এবং রুমটেক মনাস্ট্রি পর্যন্ত অসংখ্য আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে। পর্যটকরা এখানে ট্রেকিং, মাউন্টেনিয়ারিং, রিভার র্যাফটিং, প্যারাগ্লাইডিং এবং য়াক সাফারির মতো অ্যাডভেঞ্চার উপভোগ করেন। স্থানীয় খাবার যেমন মোমো, থুকপা, গুন্ডরুক এবং চুরপি স্বাদে অনন্য। সিকিমের পর্যটন বিভাগের তথ্য অনুসারে, মার্চ থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সেরা সময় ভ্রমণের জন্য, যখন বর্ষা এবং শীতের কারণে রাস্তা দুর্গম হয় না।
পর্যটকদের জন্য প্রবেশের অনুমতি হিসেবে ইনার লাইন পারমিট (ILP) এবং বিদেশীদের জন্য প্রটেকটেড এরিয়া পারমিট (PAP) প্রয়োজন, যা অনলাইনে বা বিভিন্ন অফিস থেকে পাওয়া যায়। রাজ্যটি লোসার, বুমচু এবং সাগা দাওয়া মতো উৎসব উদযাপন করে, যা সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা প্রদান করে। সিকিমের পর্যটনের প্রভাব রাজ্যের অর্থনীতিতে ইতিবাচক, যা স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়িয়েছে এবং পরিবেশ সচেতনতা প্রচার করেছে। তবে, অতিরিক্ত পর্যটনের কারণে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জও দেখা যাচ্ছে।
সিকিম সাসটেইনেবল টুরিজমের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে পর্যটকদের প্লাস্টিকমুক্ত প্র্যাকটিস অনুসরণ করতে উত্সাহিত করা হয়। আগামী দিনে রাজ্য সরকার আরও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে পর্যটনকে বাড়াতে চায়, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখবে। এই রাজ্যটি শুধুমাত্র ভ্রমণের গন্তব্য নয়, বরং প্রকৃতি ও সংস্কৃতির সংমিশ্রণের এক উদাহরণ।


