কমলপুর, প্রতিনিধি: কমলপুর নগর পঞ্চায়েতের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ঋষিপাড়ায় পুকুর ভরাটের নামে শহরের দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা-আবর্জনা ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকার মানুষ। বিষয়টি নিয়ে মহকুমা শাসকের (এসডিএম) কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঋষিপাড়ার প্রায় ২৮-২৯টি পরিবার ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ১৫০টি পরিবার দিনরাত তীব্র দুর্গন্ধের মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। আবর্জনার স্তূপ থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবর্জনার স্তূপ থেকে বিষাক্ত পোকামাকড় ঘরবাড়িতে প্রবেশ করছে, এমনকি পানীয় জলের ফিল্টারেও ছড়িয়ে পড়ছে। দুর্গন্ধের কারণে এলাকার শিক্ষার্থীদের পড়াতে প্রাইভেট শিক্ষকরাও আসতে অনীহা প্রকাশ করছেন, ফলে শিক্ষার পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা চন্দন ঋষিদাস বলেন, একদিকে সরকার 'স্বচ্ছ ভারত অভিযান'-এর মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে বাস্তবে জনবসতির মধ্যে দুর্গন্ধযুক্ত আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে।
এছাড়াও স্থানীয়দের অভিযোগ, ময়লা ফেলার প্রতিবাদ জানালে নগর পঞ্চায়েত উল্টো প্রতিবাদকারী দুই বাসিন্দার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এতে ক্ষোভ আরও বেড়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং জনবসতি সংলগ্ন এলাকায় ময়লা ফেলা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। স্থানীয়দের আশা, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান