পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য ও তান্ত্রিক আচার-অনুষ্ঠানের অনন্য সংমিশ্রণ কের পূজা আবারও অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রিপুরায়। রাজন্য আমল থেকে প্রচলিত এই প্রাচীন রাজকীয় পূজার মূল উদ্দেশ্য রাজ্যবাসীর কল্যাণ, মহামারী ও রোগব্যাধি থেকে মুক্তি এবং অশুভ শক্তির বিনাশ কামনা করা। খারচি পূজার ১৪ দিন পর শুক্লা অষ্টমী তিথিতে শুরু হওয়া এই পূজা আড়াই দিনব্যাপী কঠোর নিয়ম-নীতি মেনে সম্পন্ন হয়।
কের পূজার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এখানে কোনো নির্দিষ্ট বিগ্রহ বা মূর্তির আরাধনা করা হয় না। পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে প্রতীকী কাঠামো নির্মাণ করে বাস্তুদেবতা ও রক্ষাকর্তা দেবতার পূজা করা হয়। নির্দিষ্ট গণ্ডি বা সীমানার মধ্যে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পূজা চলাকালীন সেই গণ্ডির ভেতরে কোনো অশুভ শক্তির প্রবেশ নিষিদ্ধ বলে বিশ্বাস করা হয়। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গণ্ডির ভেতরে প্রবেশ কিংবা বাইরে বের হওয়ার ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ জারি থাকে।
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী কের পূজাকে রাজন্য আমল থেকে চলে আসা এক অত্যন্ত পবিত্র ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বাস্তু সুরক্ষা ও রাজ্যের মঙ্গল কামনায় এই পূজার আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে পূজার প্রধান পুরোহিত জানান, গত পাঁচ শতাধিক বছর ধরে একই প্রথা ও নিয়ম মেনে রাজপরিবার এবং আগরতলা রাজপ্রাসাদে কের পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি অভিষেক দেবরায় কের পূজা উপলক্ষে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সকলের সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালের ১৫ অক্টোবর ত্রিপুরা ভারতভুক্তির পরও রাজন্য আমলের এই ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় কের পূজার সমস্ত ব্যয়ভার ও আয়োজনের দায়িত্ব ত্রিপুরা রাজ্য সরকারই বহন করে আসছে। ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিক বিশ্বাস এবং জনকল্যাণের বার্তা বহনকারী এই পূজা আজও ত্রিপুরার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান