নিউজ ডেস্ক || অদম্য মানসিক শক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং অবিচল আত্মবিশ্বাসের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ত্রিপুরার কন্যা অস্মিতা। মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগের ফাইনালে কানাডার প্রতিযোগীকে রুদ্ধশ্বাস 'গোল্ডেন স্কোর' ম্যাচে পরাজিত করে স্বর্ণপদক জিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন তিনি। তাঁর এই অসাধারণ সাফল্যে গর্বিত গোটা দেশ এবং ত্রিপুরা।
এই ঐতিহাসিক জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অস্মিতাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁদের শুভেচ্ছা বার্তায় অস্মিতার অধ্যবসায়, সংগ্রাম এবং দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনার প্রশংসা করা হয়েছে।
অস্মিতার জীবনের পথ মোটেও সহজ ছিল না। তাঁর বাবা বেলোনিয়ায় একজন সাইকেল মেকানিক ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ব্রেন স্ট্রোকে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের ওপর নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।
কিন্তু বাবার মৃত্যুর মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই মায়ের অনুপ্রেরণায় মানসিক ধাক্কা কাটিয়ে আবার অনুশীলনে ফিরে আসেন অস্মিতা। সেই দৃঢ় প্রত্যয়ই আজ তাঁকে বিশ্বজয়ের মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছে।
নিজের এই সাফল্যের কৃতিত্ব ভাগ করে নিতে ভোলেননি অস্মিতা। তিনি ভোপালের SAI (Sports Authority of India) সেন্টার, জেলা কোচ বীণা দেবনাথ, রাজ্য কোচ মানব স্যার এবং সিনিয়র খেলোয়াড়দের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও নিরলস সহযোগিতাই তাঁর সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি বলে জানান তিনি।
অস্মিতার মা মুন্না পাটওয়ারী দে মেয়ের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "আজ যদি অস্মিতার বাবা বেঁচে থাকতেন, তাহলে তিনিই সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হতেন।" তাঁর এই বক্তব্য উপস্থিত সকলকে আবেগতাড়িত করে।
খেলোয়াড়ি জীবনের শুরুটা জুডো দিয়ে নয়, ৮০০ মিটার দৌড়ের মাধ্যমে। পরে তাঁর শারীরিক গঠন ও দক্ষতা দেখে স্থানীয় শিক্ষকরা তাঁকে জুডোতে আসার পরামর্শ দেন। সেই সিদ্ধান্তই আজ তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে এবং বিশ্বমঞ্চে এনে দিয়েছে স্বর্ণজয়।
ত্রিপুরার এই কৃতী কন্যার সাফল্য শুধু রাজ্যের নয়, সমগ্র ভারতের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক গর্বের অধ্যায়। অস্মিতার এই জয় আগামী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান