নিউজ ডেস্ক || বেআইনি পশু জবাই, কসাইখানার অনিয়ম এবং স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ের হওয়া এক জনস্বার্থ মামলায় ত্রিপুরা হাইকোর্ট কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। প্রধান বিচারপতি এম এস রামচন্দ্র রাও এবং বিচারপতি বিশ্বজিৎ পালিতের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করা হয়েছে কি না এবং বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার উদ্দেশ্যে আগরতলা পুরনিগম (AMC)-এর কমিশনারকে সশরীরে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়। শুনানির সময় কমিশনার আদালতে উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপন করেন।
শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, ত্রিপুরা মিউনিসিপাল আইন, ১৯৯৪ কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে। আইন অনুযায়ী কসাইখানা নির্মাণ ও পরিচালনা, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং বৈধ লাইসেন্স ছাড়া কোনো কসাইখানা পরিচালনা করা যাবে না।
এছাড়াও আদালত নির্দেশ দিয়েছে, শহরের রাস্তা বা জনবহুল এলাকায় যত্রতত্র বেআইনিভাবে পশু জবাই বন্ধে নিয়মিত নজরদারি চালাতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত বিকল্প স্থান চিহ্নিত করে সেখানে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুনানিতে রাজ্য সরকারের কাছেও একাধিক বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- রাজ্যের প্রতিটি জেলায় পশু নির্যাতন প্রতিরোধ সমিতি (SPCA) গঠন করা হয়েছে কি না।
- কসাইখানা সংক্রান্ত রাজ্যস্তরের কমিটির বর্তমান কার্যক্রম ও অগ্রগতি।
- সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী Solid Waste Management Rules বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা।
সবদিক বিবেচনা করে আদালত আগরতলা পুরনিগমের কমিশনারকে পরবর্তী শুনানির জন্য ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ২৭ আগস্ট ধার্য করা হয়েছে।
আদালতের এই নির্দেশের ফলে রাজ্যে বেআইনি পশু জবাই, কসাইখানা পরিচালনা, স্বাস্থ্যবিধি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নিয়ম বাস্তবায়নে প্রশাসনিক তৎপরতা আরও জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান