ত্রিপুরা বিধানসভার ত্রয়োদশ বিধানসভার দশম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনেই প্রয়াত ডিজিপি অনুরাগ ধনকরের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিধানসভা। ঘটনাটি নিয়ে শাসক ও বিরোধী দলের বিধায়কদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। বিরোধীদের পক্ষ থেকে এই মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানানো হয়।
বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআইএম বিধায়ক জীতেন্দ্র চৌধুরী এবং কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন-সহ বিরোধী বিধায়করা দাবি করেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে হাইকোর্টের একজন কর্মরত বিচারপতির নেতৃত্বে নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক।
বিরোধী দলনেতা জীতেন্দ্র চৌধুরী বিধানসভার রুল ৩৬১ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট এবং সুস্পষ্ট বিবৃতি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, একজন প্রাক্তন শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকের রহস্যজনক মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তার জবাব স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমেই সামনে আসা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, বিরোধীদের দাবির জবাবে মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা জানান, পোস্টমর্টেম রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ ও ধরন উল্লেখ রয়েছে এবং সেটি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ঘটনার তদন্ত ইতিমধ্যেই চলছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া তার নিজস্ব গতিতেই এগোচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সংবিধানের ১৯৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিধানসভার সদস্যদের সামনে স্বচ্ছতার স্বার্থেই তিনি বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেছেন। তদন্তাধীন বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
এদিকে, বিরোধীদের বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি এবং সরকারের পক্ষ থেকে চলমান পুলিশি তদন্তের বক্তব্য ঘিরে বিধানসভায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়। অনুরাগ ধনকরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি নিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান