আগরতলা রেল স্টেশনে কোটি টাকার মাদক উদ্ধার

2 Min Read

রেলের পার্সেল ব্যবস্থার আড়ালে পাচারের অভিযোগ, আন্তঃরাজ্য চক্রের ইঙ্গিত; তদন্তে জোর

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা: আগরতলা রেল স্টেশনে আসাম রাইফেলসের বিশেষ অভিযানে কোটি কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়েছে। ড্রাম ও বস্তাভর্তি এই মাদক রেলের পার্সেল ওয়াগনের মাধ্যমে রাজ্যে আনা হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অসমর্থিত সূত্রে জানা গেলেও, তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, চাল, ডাল কিংবা বাইক-স্কুটির মতো বৈধ পণ্যের পার্সেলের আড়ালে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই মাদক রাজ্যে ঢোকানো হচ্ছিল। রেলের পার্সেল ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরেই একটি সংগঠিত চক্র এই পাচার চালিয়ে আসছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

ঘটনার পর মাদক পাচারের রুট, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তা নন্দন সরকার এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, এই চক্র শুধুমাত্র ত্রিপুরা-কেন্দ্রিক নয়; বিহার, উত্তর প্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা আন্তর্জাতিক রুটের সঙ্গেও এর যোগসূত্র থাকতে পারে।

তাঁর মতে, রেলপথে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রী ও লাগেজ পরিবহণ হওয়ায় মালিকবিহীন পার্সেল বা ব্যাগের প্রকৃত দাবিদারকে দ্রুত শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সেই সুযোগই কাজে লাগাচ্ছে মাদক পাচারকারীরা।

তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মাদকসহ ধরা পড়া বাহক বা ক্যারিয়ারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলেও, চক্রের মূল অর্থদাতা, পরিকল্পনাকারী এবং মাস্টারমাইন্ডদের খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে তদন্ত কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায় না। ফলে মূল নেটওয়ার্ক অক্ষত থেকে যায় এবং পাচার অব্যাহত থাকে।

প্রাক্তন এই পুলিশ আধিকারিকের মতে, মাদক পাচারে জড়িতদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো কঠোর আইনি বিধান, বিশেষ করে এনডিপিএস আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে এই ধরনের সংগঠিত অপরাধ দমনে আরও সাফল্য মিলতে পারে।

উল্লেখ্য, এর আগেও ঝিরানিয়া রেল স্টেশন এবং আগরতলা পোস্ট অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয়েছিল। তবে সেই ঘটনাগুলির ক্ষেত্রেও মূল চক্রের হোতারা আইনের আওতার বাইরে থেকে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ফলে সাম্প্রতিক এই উদ্ধারকাণ্ডের পর মাদক পাচার রোধে গোটা নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে সমন্বিত ও গভীর তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version