তিপরা মথার সন্ত্রাসে বাস্তুচ্যুত বিজেপি কর্মীদের পাশে রাজীব ভট্টাচার্য্য
নিউজ ডেস্ক || নির্বাচনোত্তর সন্ত্রাসের জেরে বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় নেওয়া বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করতে আজ ভগৎ সিং যুব আবাসে পৌঁছান প্রদেশ বিজেপি সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য। সেখানে আশ্রিতদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্দশার খোঁজ নেন তিনি।
অভিযোগ, তিপরা মথা সমর্থিত গোষ্ঠীর হামলায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শতাধিক বিজেপি কর্মী বাড়িঘর ছেড়ে এই আবাসে আশ্রয় নিয়েছেন। রাজীব ভট্টাচার্যের সফর ঘিরে ভগৎ সিং যুব আবাসে উত্তেজনা দেখা দেয়। ক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকদের একাংশ পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কিছু উত্তেজিত ব্যক্তি সাংবাদিকদের উপর চড়াও হন বলে জানা গেছে। এতে কিছুক্ষণের জন্য অশান্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রাজীব ভট্টাচার্যের সঙ্গে ছিলেন ত্রিপুরা বিধানসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণী রায়, বিজেপি সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রতিনিধিদল আশ্রিতদের সমস্যা শোনেন এবং সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজীব ভট্টাচার্য তীব্র ভাষায় হিংসার নিন্দা করেন। তিনি বলেন, “তিপরা মথা ‘থানসা’ (ঐক্য) এর কথা বললেও বাস্তবে তাদের সমর্থকরা উপজাতি সমাজের মানুষের উপরই হামলা চালাচ্ছে। এতে স্পষ্ট, তারা জনজাতি মানুষের উন্নয়নে আন্তরিক নয়।”
তিনি আরও জানান, ভয়ে শতাধিক বিজেপি কর্মী বাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে থাকলেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। মন্ত্রী টিঙ্কু রায় ও বিকাশ দেববর্মা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত শান্তি ফেরানোর চেষ্টা চলছে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, সিআরপিএফ ও পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শেষে তিনি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী পরিস্থিতির উপর কঠোর নজর রাখছেন। আমাদের প্রধান লক্ষ্য শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং প্রতিটি বাস্তুচ্যুত কর্মীকে নিরাপদে বাড়ি ফেরানো।”
আশ্রিত কর্মীরা অভিযোগ করেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর মথার সন্ত্রাসে তারা বাড়িঘর ছেড়েছেন, কিন্তু পাহাড়ের রাজনৈতিক সন্ত্রাস দমনে সরকার এখনও সঠিক ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
