ইরানে মার্কিন হামলায় ধ্বংস দুই জলাধার, পানীয় জল সংকটে ২০ হাজার বাসিন্দা

2 Min Read

ইরানের হরমোজগান প্রদেশের সিরিক শহরে মার্কিন বাহিনীর হামলায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ জলাধার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ চরম পানীয় জল সংকটে পড়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধ্বংস হওয়া জলাধারগুলোর ধারণক্ষমতা ছিল যথাক্রমে ৫০০ ও ২,০০০ কিউবিক মিটার। এই দুটি জলাধার থেকেই শহরের বাসিন্দাদের জন্য পরিশোধিত পানীয় জল সরবরাহ করা হতো।

হামলার ফলে জলাধার দুটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় পানীয় জলের সরবরাহও পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে কারণ এলাকাটিতে বর্তমানে প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করছে। তীব্র গরমের মধ্যে নিরাপদ পানীয় জলের অভাবে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, ভূগর্ভস্থ জলের পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণেও নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক মানুষ বাধ্য হয়ে অপরিশোধিত জল ব্যবহার করছেন, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদে এই পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্য সংকটের রূপ নিতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার হরমোজ এলাকায় একটি মার্কিন অ্যাপাচে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান ও নৌবাহিনীর মাধ্যমে হামলা জোরদার করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কবার্তার পর বুধবার ও বৃহস্পতিবার ব্যাপক আকারে এই হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

শুধু সিরিক বা মিনাব শহরই নয়, বন্দর আব্বাস ও কাশেম দ্বীপেও ধারাবাহিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরান তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করলেও সব হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। এদিকে তেহরান পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

অন্যদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সাধারণ মানুষের জন্য অত্যাবশ্যক অবকাঠামোর ওপর হামলার তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, এ ধরনের ঘটনা হাজারো মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যকে গুরুতর ঝুঁকির মুখে ফেলে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version