নিউজ ডেস্ক || ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির নিজস্ব উৎপাদিত উদ্যানজাত জি.আই. স্বীকৃত ফসলগুলির ভ্যালুচেইন গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। কেন্দ্রীয় উত্তর পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রকের (ডোনার) মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি ‘ন্যাচার্যালি নর্থ ইস্ট’ নামে একটি অভিন্ন ব্র্যান্ড তৈরির প্রস্তাব দেন।
বৈঠকে অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অঞ্চলের ৭০ শতাংশেরও বেশি জনগণ কৃষি ও সংশ্লিষ্ট কাজের উপর নির্ভরশীল। দারিদ্র্য দূরীকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং রপ্তানির সম্ভাবনা সৃষ্টির জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, আসামের চা, মণিপুরের কালো চাল, নাগাল্যান্ডের মরিচ, ত্রিপুরার ক্যুইন আনারস এবং সিকিমের বড় এলাচের মতো জি.আই. ফসলগুলিকে ভ্যালুচেইনের মাধ্যমে যুক্ত করে এই ব্র্যান্ডের অধীনে আনলে অঞ্চলের কৃষিজাত পণ্য বিশেষ পরিচিতি লাভ করবে।
বৈঠকে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেমসিং তামাং, আসামের কৃষিমন্ত্রী অতুল বোরা, অরুণাচলপ্রদেশের কৃষিমন্ত্রী জি.ডি. ওয়াংসু সহ পদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আনারস, কলা, হলুদ, আদা, বড় এলাচ, অর্কিড এবং বাঁশের মতো ফসলের উৎপাদন বাড়াতে প্রতি রাজ্যে টিস্যুকালচার ল্যাব স্থাপন দরকার। প্রিসিশন ফার্মিং, জি.পি.এস., সেন্সরস এবং এআই-এর মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশ রক্ষা সম্ভব। গুয়াহাটিতে মেগা কালেকশন সেন্টার স্থাপন, গামা বিকিরণ প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিপণন শক্তিশালী করার প্রস্তাবও তিনি দেন।
এই প্রস্তাব অঞ্চলের কৃষকদের আয় বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে সাহায্য করবে। কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তায় প্রতিবেশী দেশগুলিতে রপ্তানির সমীক্ষা করা হলে, উত্তর পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
