নিউজ ডেস্ক || ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদ (এডিসি) নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সহিংসতা ও হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিজেপির অভিযোগ, ফল প্রকাশের পর তাদের দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ওপর পরিকল্পিত হামলা, বাড়িঘরে আগুন লাগানো, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, রাজ্যের একাধিক এলাকায় বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তার অভাবে অনেক কর্মী-সমর্থক ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে ত্রিপুরা বিজেপির সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা করে বলেন, “গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর মধ্যে এ ধরনের সহিংসতা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকের সঙ্গে শীঘ্রই আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানানো হবে।
প্রদেশ বিজেপি সভাপতি তিপ্রা মথার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নিরীহ জনগণের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে, কলমচৌড়া থানার ওসিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেনের একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হওয়ায় নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। রাজীব ভট্টাচার্য জানান, অডিওটির সত্যতা যাচাই না করে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। যাচাইয়ের পর দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করা হবে।
অন্যদিকে, লোকসভায় ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস না হওয়া নিয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছে বিজেপি। দলের অভিযোগ, এই ইস্যুতে কংগ্রেসের অবস্থান অস্পষ্ট ও দ্বিচারিতাপূর্ণ।
এডিসি নির্বাচন-পরবর্তী এই পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করলেও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
