নিউজ ডেস্ক || ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মনিশ্চয়না আইন (এমজিএনরেগা) প্রকল্পকে কার্যত বাতিল করে গ্রামীণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলেছেন। এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকারের প্রচারে বেশি কাজ, মজুরি ও বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে প্রতারিত করা হচ্ছে।
ইউপিএ সরকারের আমলে এমজিএনরেগায় কেন্দ্রীয় বাজেটের ৪ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও বর্তমান অর্থবর্ষে তা কমে ১.৩৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলে জানান সাহা। ২০১৪ সালের পর দেশে ১০ কোটিরও বেশি জব কার্ড বাতিল হয়েছে, যার মধ্যে ত্রিপুরায় ৯ লক্ষ। ফলে কাজের গড় দিন দেশে ৪৫-৪৬ থেকে কমে এসেছে, রাজ্যে ৩২-৩৩ দিনে। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১১ বছরে মাত্র ৮ শতাংশ জব কার্ডধারী ১০০ দিনের কাজ পেয়েছেন, যাদের বেশিরভাগ শাসকদলের ঘনিষ্ঠ।
কেন্দ্রীয় গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের সোশ্যাল অডিট রিপোর্ট উদ্ধৃত করে সাহা বলেন, ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ত্রিপুরায় শত শত কোটি টাকার অনিয়ম ধরা পড়েছে। তাঁর মতে, এই তথ্য আড়াল করতেই সরকার নতুন আইনের মাধ্যমে প্রকল্পের আইনি অধিকার তুলে দিতে চাইছে, যাতে অর্থ ঠিকাদার ও শাসকদলের হাতে চলে যায়। দেশ ও রাজ্যে কোটি কোটি টাকা মজুরি বকেয়া পড়ে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এমজিএনরেগাকে গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড বলে অভিহিত করে সাহা জানান, এর দুর্বলতা গরিব মানুষের জীবিকা ধ্বংস করবে। কংগ্রেস দল এই নীতির বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। এই অভিযোগগুলি গ্রামীণ উন্নয়ন নীতির উপর নতুন বিতর্ক তুলতে পারে, যা আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে।
