ওয়াশিংটনে গুলির শব্দে কেঁপে উঠল ক্ষমতার কেন্দ্র—অল্পের জন্য রক্ষা বড় বিপর্যয়

2 Min Read

ওয়াশিংটন ডিসির রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য ছড়াল এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা সংকট। ঝলমলে আলো, কূটনৈতিক হাসি আর রসিকতার আবহে চলছিল বার্ষিক White House Correspondents’ Dinner—হঠাৎই বাইরে থেকে ভেসে আসা গুলির শব্দে থমকে যায় পুরো অনুষ্ঠান।

শনিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই বহুল আলোচিত নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স-সহ প্রশাসন ও গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হোটেলের বলরুমের বাইরে অবস্থান নিয়ে আচমকাই নির্বিচারে গুলি চালায় এক হামলাকারী, যার ফলে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত তৎপর হয় ইউনাইটেড স্টেটস সিক্রেট সার্ভিস। বলরুমের ভেতরে থাকা অতিথিদের নিরাপত্তা বলয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে। যদিও প্রথমদিকে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে বিভ্রান্তিকর খবর ছড়িয়ে পড়েছিল।

প্রায় দেড় ঘণ্টা পর প্রকাশ্যে এসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি শুধু একটি হামলা নয়, এটি মার্কিন সংবিধানের ওপর আঘাত।” নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে বড়সড় বিপদ এড়ানো গেছে বলেও জানান তিনি। গুলিবিদ্ধ এক কর্মকর্তার প্রাণ বেঁচেছে বুলেটপ্রুফ ভেস্টের কারণে—এই তথ্যও সামনে এসেছে।

তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারীর নাম কোল থমাস অ্যালেন (৩১), ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা। সে একই হোটেলের অতিথি হিসেবেই অবস্থান করছিল। তার কাছ থেকে একটি শটগান, একটি হ্যান্ডগান এবং ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে অভিযুক্ত, এবং তার বিরুদ্ধে ফেডারেল পর্যায়ে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। খুব শিগগিরই আদালতে এই মামলার শুনানি শুরু হবে।

ঘটনার আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও তীব্র। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক বার্তায় বলেন, “গণতন্ত্রে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।”

উল্লেখ্য, White House Correspondents’ Dinner ঐতিহ্যগতভাবে রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্মানের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তবে এবারের আসর সেই চেনা ছবিকে ভেঙে দিয়ে সামনে নিয়ে এল নিরাপত্তা সংকটের নির্মম বাস্তবতা।

বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী গণতন্ত্রের কেন্দ্রেও কি নিরাপত্তা আর নিশ্চিত নয়—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version