নিউজ ডেস্ক || ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য ঘোষিত ‘পূর্বোদয় প্রকল্প’ ও ‘অষ্টলক্ষ্মী উন্নয়ন মডেল’ ত্রিপুরাকে পর্যটন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ প্রদান করেছে। বিশেষ করে পাঁচটি উত্তর-পূর্ব রাজ্যে বৌদ্ধ সার্কিট গঠনের প্রস্তাব রাজ্যের ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে তুলে ধরবে।
ত্রিপুরা দীর্ঘদিন ধরে বৌদ্ধ ঐতিহ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, যেখানে পিলাক, দেবতামুড়া প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলিতে বৌদ্ধ নিদর্শন পাওয়া যায়। বাজেটে এই সার্কিটের ঘোষণায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পর্যটকদের আকর্ষণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বোধগয়া-সারনাথের মতো জাতীয় সার্কিটের সঙ্গে যুক্ত হলে ত্রিপুরার পর্যটন, অবকাঠামো ও স্থানীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে।
তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। রাজ্যের পর্যটন পরিকাঠামো আন্তর্জাতিক মানের নয়, সড়ক, আবাসন ও স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন প্রয়োজন। এছাড়া পাঁচটি আঞ্চলিক মেডিকেল ট্যুরিজম হাবের পরিকল্পনা বাংলাদেশ-মায়ানমারের নৈকট্যে চিকিৎসা পর্যটনকে উত্সাহিত করবে, কিন্তু উন্নত চিকিৎসা সুবিধা গড়ে তোলা দরকার।
সফল বাস্তবায়নে পর্যটন-নির্ভর কর্মসংস্থান বাড়বে, হোটেল, পরিবহণ ও হস্তশিল্পে প্রভাব পড়বে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্রুত প্রকল্প চিহ্নিতকরণ ও সমন্বয় না হলে এটি কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
এই বাজেট ত্রিপুরাকে উত্তর-পূর্বের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ দিয়েছে। ভবিষ্যতে কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয়ে বাস্তবায়ন হলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে।
