আগরতলা, ২৫ জুন: দেশের ইতিহাসে জরুরি অবস্থার (ইমার্জেন্সি) অধ্যায়কে স্মরণ করে আগরতলায় এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিজেপি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর মানিক সাহা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি অভিষেক দেব রায়, মন্ত্রী টিংকু রায়, সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা সহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর মানিক সাহা ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময়কার নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইমার্জেন্সি ঘোষণার সময় তিনি এলাহাবাদ রেলওয়ে স্টেশনে আটকে পড়েছিলেন এবং চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে কলকাতা হয়ে আগরতলায় ফিরতে বাধ্য হন। সেই সময়ের দুর্ভোগ ও উদ্বেগের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর জরুরি অবস্থার প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর। তিনি তৎকালীন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী সুখময় সেনগুপ্তের আমলের বিভিন্ন ঘটনাও স্মরণ করেন।
রাজ্য বিজেপি সভাপতি অভিষেক দেব রায় তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সময়ের গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার সঙ্গে জরুরি অবস্থার সময়কার পরিস্থিতির তুলনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “গণতন্ত্র না থাকলে মানুষ তার প্রকৃত মূল্য উপলব্ধি করতে পারে।” বিচারব্যবস্থা, গণমাধ্যম এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষা করার দায়িত্ব রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জরুরি অবস্থার সময়ের নানা ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁদের দাবি, ওই সময় মানুষের বাক্স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল, বিরোধী মত দমনে নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং সাধারণ মানুষের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালানো হয়েছিল। বক্তারা গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
জরুরি অবস্থার সেই অধ্যায় স্মরণ করে বক্তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে গণতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরার ওপরও জোর দেন।
