আগরতলা, ৯ জুলাই: টানা বর্ষণের জেরে ত্রিপুরার বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর রাজ্যের পাঁচটি জেলা—পশ্চিম ত্রিপুরা, খোয়াই, ধলাই, উনকোটি এবং উত্তর ত্রিপুরার জন্য অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করেছে। পাশাপাশি সিপাহীজলা ও দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় ইয়েলো অ্যালার্ট বলবৎ রয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১০ ও ১১ জুলাই পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ১২ জুলাই থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। এই সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৭ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৪ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস-এর মধ্যে থাকতে পারে। আগরতলা মৌসম ভবন সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার এবং বাইরে বের হলে ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
অবিরাম বর্ষণের প্রভাবে রাজ্যের একাধিক নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। খোয়াই নদীর জলস্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নদী তীরবর্তী নিচু এলাকার বাসিন্দাদের পরিস্থিতি খারাপ হলে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে হাওড়া নদীর জলস্তরও বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। আবহাওয়া দপ্তরের আশঙ্কা, বিকেলের দিকে আবার ভারী বৃষ্টি হলে নিচু এলাকার বহু বাড়িঘরে জল ঢুকে পড়তে পারে। একইভাবে মুহুরী ও ফেনী নদীর জলস্তরও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যেই কাটাখাল এলাকার কয়েকটি অংশে জল প্রবেশের খবর পাওয়া গেছে।
টানা বৃষ্টির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে কৃষিক্ষেত্রে। রাজ্যের বিভিন্ন নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ধানের চারা রোপণের গুরুত্বপূর্ণ সময় হওয়ায় অতিবৃষ্টিতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক জমিতে জল জমে থাকায় চাষাবাদের কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
পরিস্থিতির ওপর প্রশাসন ও দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থাগুলি সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। আবহাওয়া দপ্তর নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা, নদী ও জলাশয়ের কাছাকাছি না যাওয়ার এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
