নিউজ ডেস্ক || পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্রিপুরা সরকার সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন এবং রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজ্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং জনগণকে অযথা ভীত না হয়ে সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গে দুই নার্স নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অবস্থায় থাকায় প্রতিবেশী রাজ্য ত্রিপুরায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান ডা. তপন মজুমদার জানান, নিপাহ ভাইরাস ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায় প্রথম ধরা পড়ে এবং ভারতে শিলিগুড়ি ও কেরালায় এর প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর সংক্রমণ ঘটে, চলতি বছর চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি বলেন, “এই ভাইরাস মূলত বাদুড়ের মাধ্যমে ছড়ায়, বিশেষ করে কাঁচা খেজুরের রস থেকে। কোভিডের তুলনায় মৃত্যুহার অনেক বেশি।”সংক্রমণের লক্ষণগুলির মধ্যে জ্বর, অচেতনতা, কাশি ও শ্বাসকষ্ট অন্যতম। ডা. মজুমদারের কথায়, মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণও সম্ভব, বিশেষত হাসপাতালে। ত্রিপুরায় আরটি-পিসিআর পরীক্ষা চালু রয়েছে এবং নমুনা পুনের এনআইবিতে পাঠানো হবে। স্বাস্থ্য দফতরের অধিকর্তা ডা. দেবশ্রী দেববর্মা জানান, সব জেলায় আইসোলেশন ওয়ার্ড চিহ্নিত করা হয়েছে, র্যাপিড রেসপন্স টিম সক্রিয় এবং অক্সিজেন সরঞ্জাম মজুত রয়েছে।
জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের এমডি সাজু ওয়াহিদ আশ্বস্ত করেছেন, ত্রিপুরায় এখনও কোনও সংক্রমণ নেই এবং পরীক্ষার কিটসহ সবকিছু প্রস্তুত। তিনি বলেন, “অযথা গুজবে কান দেবেন না, জ্বর হলে দ্রুত হাসপাতালে যান।” পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হবে। এই ঘটনা ভাইরাস প্রতিরোধে আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে।
