নিউজ ডেস্ক || ত্রিপুরা রাজ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রাজস্ব সংগ্রহে চোখে পড়ার মতো অগ্রগতি হয়েছে। রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু শুক্রবার ত্রয়োদশ ত্রিপুরা বিধানসভার নবম অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে এই তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর ভাষণে শিক্ষা, পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৩,৮০০ কোটি টাকার ৮৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
রাজ্যপাল জানান, আগরতলায় অনুষ্ঠিত ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ ২০২৫’-এর মাধ্যমে ১২০-এর বেশি বিনিয়োগকারী আগ্রহ দেখিয়েছেন। আর্থিক অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে অক্টোবর পর্যন্ত জিএসটি থেকে ৯৯৪.২৩ কোটি, ভ্যাট থেকে ২৮১.৪০ কোটি, আবগারি শুল্ক থেকে ২৭১.৪৮ কোটি এবং প্রফেশনাল ট্যাক্স থেকে ২৬.৮৫ কোটি টাকা সংগ্রহ হয়েছে। এতে রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ইতিবাচক প্রবণতা প্রতিফলিত হয়েছে।
নতুন নীতিগত উদ্যোগের কথা তুলে ধরে রাজ্যপাল উল্লেখ করেন, ‘ত্রিপুরা উইমেন এন্টারপ্রেনিউরশিপ পলিসি ২০২৫’ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বাজার ও ঋণের সুযোগ বাড়াবে। এছাড়া, ‘ত্রিপুরা জন বিশ্বাস আইন’ প্রণয়নের মাধ্যমে বিশ্বাসভিত্তিক প্রশাসন গড়ে তোলা হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ২৩ জুন ২০২৫-এ ‘উল্লাস নব ভারত সাক্ষরতা কর্মসূচি’-র আওতায় ৯৫.৬ শতাংশ সাক্ষরতা অর্জন করে ত্রিপুরা পূর্ণ সাক্ষর রাজ্য হিসেবে ঘোষিত হয়েছে, যা জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০-এর লক্ষ্য অনুযায়ী দেশের তৃতীয় রাজ্য। নবায়নযোগ্য শক্তিতে পিএম-কুসুম প্রকল্পে সর্বাধিক সৌর পাম্প স্থাপনের জন্য রাজ্য ‘সেরা পারফরমিং রাজ্য’ পুরস্কার পেয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় উইমেনস কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা, ত্রিপুরা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিকে রাজ্য প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর এবং আগরতলা, উদয়পুর ও আমবাসায় নতুন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, ১০,৬১৭ কিলোমিটার সড়ক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটেছে। এই অগ্রগতি ত্রিপুরাকে অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বনির্ভর করে তুলবে এবং জাতীয় স্তরে উদাহরণ স্থাপন করবে।
