ত্রিপুরার সাহসী পদক্ষেপ: গুয়াহাটির শক্তি বৈঠকে গ্যাস মূল্য বৃদ্ধি বাতিল, উত্তর-পূর্বের জয়!

2 Min Read
নিউজ ডেস্ক || উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শক্তি কমিটির ২৯তম বৈঠকে ত্রিপুরার বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি এক বিশাল আর্থিক বোঝা থেকে মুক্তি পেয়েছে। গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় মন্ত্রী নাথ তাঁর তথ্যভিত্তিক ও সুপরিকল্পিত বক্তব্যের মাধ্যমে দুটি জনবিরোধী প্রস্তাব বাতিল করতে সক্ষম হন, যা ত্রিপুরা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভোক্তাদের জন্য কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় করবে।
বৈঠকের আগের দিন টেকনিক্যাল কমিটির সভায় ওটিপিসি পালাটানা বিদ্যুৎ প্রকল্পে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। এটি কার্যকর হলে ভোক্তাদের উপর প্রচণ্ড আর্থিক চাপ পড়ত। কিন্তু মন্ত্রী নাথ দৃঢ়ভাবে এর বিরোধিতা করে বলেন, এই প্রস্তাব অযৌক্তিক ও জনস্বার্থবিরোধী। তাঁর যুক্তিপূর্ণ অবস্থানের ফলে কমিটি প্রস্তাবটি বাতিল করতে বাধ্য হয়। এছাড়াও, সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ক্রয়ের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তিনি বলেন, এটি গ্রাহকদের উপর অতিরিক্ত বোঝা চাপাবে। তাঁর দাবির মুখে এই প্রস্তাবও স্থগিত হয়।
সভায় মন্ত্রী নাথ ত্রিপুরার বিদ্যুৎ খাতের অভূতপূর্ব সাফল্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাজ্যে ইতিমধ্যে ২৬ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে উঠেছে। ৪৫,০০০ সৌর রাস্তার আলো, ৪৯০০ সৌর পাম্প, ২১৫টি সৌর মাইক্রোগ্রিড, ৩ মেগাওয়াট ছাদ সৌর প্যানেল এবং ২ মেগাওয়াট অফ-গ্রিড সৌর ইউনিট স্থাপিত হয়েছে। ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর মুফত বিদ্যুৎ যোজনা’ প্রকল্পের মাধ্যমে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মডেল সৌর গ্রাম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এনএইচপিসি-র পাম্পড পাওয়ার স্টোরেজ প্রকল্প ত্রিপুরায় বাস্তবায়নের পথে। এটি সৌর বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করে রাতে ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে। ‘এক সূর্য, এক পৃথিবী, এক গ্রিড’ প্রকল্পের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ত্রিপুরা বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ২,২৭৫ কোটি টাকার প্রকল্পের মাধ্যমে রুখিয়া ও গোমতী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আধুনিকীকরণ, স্মার্ট মিটারিং, ভূগর্ভস্থ তার সংযোগ ও সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।
অন্যান্য রাজ্যের মন্ত্রীরা রতন লাল নাথের তথ্যনিষ্ঠ ও সমাধানমুখী উপস্থাপনার প্রশংসা করেন। তাঁর নেতৃত্বে ত্রিপুরা শুধু বিদ্যুৎ ঘাটতি কাটিয়ে উঠেনি, বরং নবায়নযোগ্য শক্তিতে আত্মনির্ভর ও ভবিষ্যত-প্রস্তুত রাজ্য হিসেবে জাতীয় মানচিত্রে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। এই সভা ত্রিপুরার বিদ্যুৎ খাতের ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version